দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে চলতে পারে লোকাল ট্রেন এবং মেট্রো এমনটাই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরই প্রেক্ষিতে চরম ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেছে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের টিকিয়াপাড়া কারশেডে। একদিকে সমস্ত লোকাল ট্রেনের রেকগুলিকে আবার ট্রাকে চলার উপযোগী করে তুলতে ভালওভাবে পরীক্ষানিরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নজর স্যানিটাইজেশনে।
করোনার জন্য গত পাঁচ মাস লোকাল ট্রেন না চলায় ধুলো পড়ে গিয়েছিল সমস্ত ইএমইউ রেকগুলোতেই। সেগুলোকে পুরোপুরি পরিষ্কার করা হচ্ছে। করোনা আবহে যাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে প্রত্যেকটি রেককে স্যানিটাইজ করার কাজও চলছে। বর্তমানে হাওড়া স্টেশনের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব শাখা মিলিয়ে সারাদিনে কয়েক লক্ষ নিত্যযাত্রী প্রতিদিন লোকাল ট্রেনে যাতায়াত করেন। তাঁদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই রেলের তরফ থেকে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
টিকিয়াপাড়ার সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার চয়ন হালদার জানান, ট্রেন না চললেও রেকগুলি দেখভালের কাজ জারি রয়েছে। এখন সেই কাজে আরও গতি এসেছে। কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি তাই কাজের সময়ও বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যেই ইচ্ছেতে যদি রেল শিলমোহর দেয় এবং পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হয়, তাহলে আমাদের দিক থেকে কোনও অসুবিধা হবে না। আমরা সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছি। রেকগুলির দেখভালের পাশাপাশি যাত্রী সুরক্ষার দিকটাও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তাই কামরার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’’
গত বুধবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “সবরকমের বিধি, মেনে যদি কেন্দ্র মেট্রো পরিষেবা ও লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালাতে চায় তাহলে রাজ্যের কোনও আপত্তি নেই।” এরপরেই গতকাল শুক্রবার রেল বোর্ডকে চিঠি দিয়ে সে কথা জানিয়েছেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান বিনোদ কুমার যাদবকে লেখা চিঠিতে রাজ্যের তরফে বলা হয়েছে, বিধি মেনে রেল ও মেট্রো পরিষেবা চালালে রাজ্যের কোনও আপত্তি নেই।
আনলকের চতুর্থ পর্বে রেল পরিষেবা আস্তে আস্তে স্বাভাবিক করবে কেন্দ্র। সপ্তাহখানেক ধরেই এমনটা শোনা যাচ্ছে। রেলের প্রস্তুতি দেখে অনেকেই মনে করছেন, সেপ্টেম্বরের গোড়াতে না হলেও মাঝামাঝি সময় থেকে হয়তো চালু হয়ে যেতে পারে রেল পরিষেবা।