দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: করোনা পরিস্থিতিতে আট মাসেরও বেশি সময় বন্ধ ছিল। কোভিড বিধি মেনেই এবার মন্দির চত্বরে বসে ভোগ খাওয়ানোর আয়োজন করা হল বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। কোভিড সংক্রমণের কারণে টানা ছ'মাস ধরে মন্দিরের গেটে তালা পড়েছিল। নিউ নর্মালে ধীরে ধীরে সব কিছু স্বাভাবিক হতেই খুলেছে মন্দিরের গেটের তালা। এ বার শুরু হল ভোগ খাওয়ানো।
সংক্রমণ এড়াতে করা হয়েছে স্যানিটাইজার টানেল। আছে স্যানিটাইজার। মাস্ক ছাড়া নো এন্ট্রি। স্বাস্থ্য আগে, শাস্ত্র পরে সর্বমঙ্গলা মন্দিরের মূলমন্ত্র। ট্রাস্টের সম্পাদক সঞ্জয় ঘোষ জানিয়েছেন, রবিবার থেকে মন্দির চত্বরে বসে ভোগ খাওয়ানো শুরু করা হল। প্রতিদিন একশোজনকে এখন থেকে বসে ভোগ খাওয়ানো হবে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই সব কিছু করা হচ্ছে। কোভিড বিধিকে মেনে চলা হচ্ছে কঠোরভাবেই। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আরও বেশি মানুষকে বসিয়ে ভোগ খাওয়ানো হবে।
সর্বমঙ্গলা মন্দিরে নবান্ন উৎসব দিয়ে গোটা রাঢ়বঙ্গে নবান্নের সূচনা হয়। কোভিডের জন্য টানা আট মাস ভোগ বিলি বন্ধ ছিল। সপ্তাহ তিনেক আগে নবান্নের দিনে প্রথম সাধারণের জন্য ভোগ বিলি করা হয়। তবে সেই আয়োজন অন্য বছরের তুলনায় অনেকই কম। এবার ৮০০ জনকে ভোগ বিলি করা হয় বলে জানান ট্রাস্টের সম্পাদক সঞ্জয়বাবু। অন্য বছর নবান্ন অনুষ্ঠানে প্রচুর লোকজনের সমাবেশ হত। কিন্তু এবার সেই তুলনায় বেশ কম লোকজন হয়।
বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম পীঠস্থান। এখানে দেবী সর্বমঙ্গলা রূপে পুজিতা হন। এই মন্দির ঘিরে অনেক উপকথা আছে। রাজা তেজচন্দের আমলে এখানে মন্দির পত্তন হয়। তার আগে জেলেবাড়ির মেছেনিরা নাকি এই মূর্তির উপরে গুগলি শামুক ভাঙতেন। স্বয়ং রামকৃষ্ণ এই মন্দিরে এসেছেন বলে কথিত আছে। কোভিড সংক্রমণের কারণে ছ'মাস মন্দির বন্ধ ছিল। ভক্তের সমাগম বন্ধ থাকলেও রাজার আমল থেকে চলে আসা রীতির কোনও অন্যথা হয়নি।