
শেষ আপডেট: 31 December 2020 12:16
সমুদ্র না পাহাড়! বরাবরই কনফিউজড বাঙালি। তাই দিঘা-দার্জিলিঙের দড়ি টানাটানি চলে বছরভর। এবার করোনা পরিস্থিতিতে সেই লড়াই যেন আরও হাড্ডাহাড্ডি। লোকের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে বর্ষবরণের আনন্দে মাতবেন বলে ভেবেছিলেন যাঁরা, তাঁরা বেশিরভাগই ছুটেছেন হাতের কাছে দার্জিলিঙে। তাই শহর দার্জিলিং তো বটেই ঠাঁই নেই অবস্থা লাগোয়া গ্রামগুলিতেও। মিরিক, কালিম্পং, কার্শিয়াং পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়েছে। হেরিটেজ রাইড নিতে টয়ট্রেনের সামনে মস্ত লাইন। ভিড়ের নিরিখে নিঃসন্দেহে সেকেন্ড দার্জিলিং।
তিন নম্বরে রাখাই যায় বাঁকুড়া জেলায় মুকূটমণিপুর, শুশুনিয়া, বিষ্ণুপুর, জয়পুরকে। কংসাবতীর ধারে মুকূটমণিপুরে ভিড় শুরু হয়ে গেছে ২৫ ডিসেম্বর থেকেই। বছরভরের ক্লান্তি ভুলতে আসা পর্যটকদের ভিড়ে গমগম করছে শুশুনিয়া পাহাড়ও। খালি নেই কোনও হোটেল রিসর্ট। উঁচু টিলা- লাল মাটি আর শাল মহুয়ার টানে ভিড় বাড়ছে।
অযোধ্যা পাহাড়ের টানে ভিড় বাড়ছে পুরুলিয়ায়। অযোধ্যা পাহাড়ের কোনও সরকারি-বেসরকারি আবাসে থাকার জায়গা নেই। এমনকি ভর্তি পুরুলিয়া শহরের হোটেলগুলিও। জানা গেল জানুয়ারির ১০ তারিখ পর্যন্ত সব বুকড। ভিড়ের নিরিখে নিঃসন্দেহে চার নম্বরে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়।
ভিড়ের হিসেবে পাঁচ নম্বরে ডুয়ার্স। উত্তরবঙ্গে গিয়েছেন। অথচ পাহাড়ে ওঠেননি যাঁরা, তাঁরা থেকে গিয়েছেন ডুয়ার্সের বিভিন্ন জঙ্গল রিসর্টে। গরুমারা, চাপরামারি, মূর্তির হোটেল রিসর্টগুলি ফাঁকা নেই কোনওটাই। জানা গেল, যাঁরা আসছেন তাঁদের বেশিরভাগই দক্ষিণবঙ্গের মানুষ। বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের জন্য সেজে উঠেছে ডুয়ার্সের রিসর্টগুলি। আলিপুরদুয়ারের বক্সা-জয়ন্তী-জলদাপাড়া-টোটোপাড়াতেও নজরকাড়া ভিড়। তবে এ ব্যাপারে এগিয়ে জয়ন্তী। ভর্তি এখানকার বেশিরভাগ হোটেল।
মোহনার বকখালি এবার তুলনামূলক পিছিয়ে। বছর শেষে যেমন ভিড় দেখে অভ্যস্ত এখানকার মানুষ, এবার তার সিকিভাগও নেই। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু মানুষ এসেছেন পিকনিক করতে। ডায়মন্ডহারবারেও এবার তেমন ভিড় নজরে আসেনি। কোভিডের আতঙ্ক দূরে সরিয়ে যাঁরা বের হতে পেরেছেন তাঁদের নিয়েই সাধ্যমতো উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। আর যাঁরা বের হতে পারলেন না তাঁরা থেকে গেলেন ২০২১ এর অপেক্ষায়।