দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: কেউ কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রয়েছেন ১২ দিন, কেউ ১০ দিন। ঘরে ফেরার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়েছেন প্রত্যেকে। কিন্তু লালারসের নমুনা পরীক্ষা হয়নি এখনও। তাই কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে বেরিয়ে এসে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা।
ধুপগুড়ি ব্লকের বানারহাট কার্তিক ওড়াও হিন্দি কলেজের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রয়েছেন ১১৪ জন পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁদের বক্তব্য, ভিনরাজ্য থেকে ফিরে আসায় এই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে থাকতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। কিন্তু খাবার ও জল সব কিছু নিয়েই দুর্ভোগ ভোগ করতে হচ্ছে তাঁদের। তাই এখন তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরে যেতে পারলে তাঁরা বেঁচে যান। কিন্তু এখনও সংগ্রহ করা হয়নি লালারস। তারপর তা পাঠানো হবে পরীক্ষার জন্য। পরীক্ষা না করে ঘরে গেলে সেখানেও বিপদ।
তাই ক্ষোভে ফুটছেন এলাকার মানুষ। বুধবার রাতে পুলিশের সামনেই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে রাস্তায় চলে আসেন তাঁরা। শুরু হয় বিক্ষোভ। কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে থাকা এক আবাসিক বিপ্লব শিকদার বলেন, ‘‘এখানে ১১৪ জন পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। তাঁদের কারও ১১ দিন, কারও আবার ১২ দিন সেন্টারে থাকা হয়ে গেছে। কিন্তু এখনও কারও লালারস সংগ্রহ করা হয়নি। এই অবস্থায় যদি আমরা ছাড়া পেয়ে গ্রামে ঢুকতে যাই সেখানেও বাধা দেওয়া হবে। এখানে রোজ যে খাবার দেওয়া হচ্ছে তা মুখে তোলা যাচ্ছে না। এমনকি পানীয় জলও ঠিক মতো মিলছে না।’’
দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভের পর বেশি রাতে পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্তাদের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভ তুলে নেন কার্তিক ওড়াও হিন্দি কলেজে তৈরি হওয়া এই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের আবাসিকরা।
ঘটনা জেনেছেন উত্তরবঙ্গে করোনা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি ডাক্তার সুশান্ত রায়। তিনি বলেন, ‘‘লালারস সংগ্রহ করতে এত দেরি হওয়ার কথা নয়। বিএমওএইচ এর কাছে বিষয়টি জানতে চাইব।’’