দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: অনিশ্চয়তার প্রহর গুনছেন বাজি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৩১ লক্ষ মানুষ। কেবলমাত্র মহেশতলা-বজবজ নুঙ্গি এলাকাতেই বাজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছেন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের রায়ের পর তাই স্তব্ধতা বাজিপাড়ার ঘরে ঘরে।
মহেশতলা-বজবজ আতশবাজি সমিতির সম্পাদক শুকদেব নস্কর জানালেন, মহামান্য আদালত দীপাবলীতে বাজি নিষিদ্ধ করলে প্রায় ৩১ লক্ষ মানুষ চূড়ান্ত আর্থিক সঙ্কটের মুখে এসে দাঁড়াবেন। তিনি বলেন, ‘‘আজ থেকে পাঁচ মাস আগে যদি এমন কোনও রায় ঘোষণা করা হতো সে ক্ষেত্রে এই বাজি ব্যবসায় কেউই এত কোটি টাকা লগ্নি করত না।’’প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যেই এই ব্যবসায় লগ্নি করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। তাঁদের আশা মহামান্য আদালত শিল্প এবং পরিবেশ এই দুইয়ের সহাবস্থানকে মাথায় রেখেই কোনও রায় দেবেন।
মহেশতলা-বজবজ আতশবাজির সঙ্গে যুক্ত ছোট বড় ব্যবসায়ী মিলিয়ে মোট ২৬ জনের আতশবাজি তৈরির এবং প্রায় দেড়শো জনের বাজি বিক্রির অনুমতি রয়েছে। গত বছর জুন মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্ষুদ্র শিল্প নিগমের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা ব্যয়ে উন্নত মানের পরিবেশবান্ধব বাজি-তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল মহেশতলা-বজবজে আতশবাজি তৈরির সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের। পাশাপাশি এই অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক সুরক্ষা যোজনারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমস্ত ছোট বড় ব্যবসায়ীকে যাতে একই ছাদের তলায় আনা যায় তার জন্য একটি বাজিহাব বানানোর পরিকল্পনাও রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের, যা বাস্তবায়িত হওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এমন একটা পরিস্থিতিতেই করোনা রোগীদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে বৃহস্পতিবার রাজ্যে বাজি পোড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করে কলকাতা হাইকোর্টের গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। পরিবেশ আদালতের রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কালীপুজো থেকে ছটপুজো পর্যন্ত বাজি পোড়ানো যাবে না। বিক্রিও করা যাবে না বাজি।
বাজি পোড়ালে যে দূষণ বাড়ে একথা বৈজ্ঞানিক ভাবেই সত্য। বাজির ধোঁয়ায় বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বল্গাহীন ভাবে বেড়ে যায়। তাই কোভিড পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এ বছর বাজি পোড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করা হয়েছিল আদালতে। সেই আবেদনের শুনানিতে এদিন এই রায় দিয়েছে আদালত।
আর এই রায়ের পরেই নিজেদের ভবিষ্যত ভেবে স্তব্ধ মহেশতলা-বজবজের বিস্তীর্ণ এলাকা।