দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে জঙ্গল খুলে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার থেকে খুলে গেল রাজ্যের সমস্ত জাতীয় উদ্যান এবং চিড়িয়াখানাও। তবে সব জায়গাতেই লকডাউন-৫ এর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোভিড গাইডলাইন মেনে চলা হবে। প্রবেশের ক্ষেত্রে পর্যটকদের মানতে হবে গুচ্ছ নিয়ম। ভিড় করে চিড়িয়াখানায় ঢোকা একেবারে নিষেধ।
রাজ্যের সব চিড়িয়াখানার সঙ্গে শিলিগুড়িতে আফ্রিকান ধাঁচে তৈরি বেঙ্গল সাফারি পার্কের দরজাও খুলে গেল। খুলে গেছে দার্জিলিঙের পদ্মজা নাইডু চিড়িয়াখানাও। ৬ মাসের বেশি সময় ধরে রেড পান্ডা থেকে স্নো লেপার্ড, রয়েল বেঙ্গল টাইগার থেকে ব্ল্যাক পাইথন নিজেদের এনক্লোজারেই মজেছিল। লকডাউনের মাঝেই পাহাড়ের চিড়িয়াখানা উপহার পেয়েছে রেড পান্ডার শাবক। এসেছে টাকিনাও। আর বেঙ্গল সাফারির আকর্ষণ রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের জোড়া শাবক। তাই চিড়িয়াখানার দরজা খুললেই যে ভিড় জমাবেন দর্শকরা এমন আশা করেছিলেন কর্তৃপক্ষ।
শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল পার্ক খোলার বিষয়ে। পার্ক কর্মীদের আলাদা করে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতিতে কোভিড প্রোটোকল মেনে কী ভাবে পর্যটকদের সঙ্গে আচরণ করা হবে সে বিষয়ে মক ড্রিলের আয়োজন পর্যন্ত করা হয়েছে। দার্জিলিঙের পদ্মজা নাইডু জুলজিক্যাল পার্কের পক্ষ থেকেও সেখানকার কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতরের জারি করা কোভিড প্রোটোকল মেনেই শুরু হল মানুষের আনাগোনা।
জানা গেছে, বেঙ্গল সাফারি পার্কে শুক্রবার ৩০০ জন বেড়াতে এসেছিলেন। প্রত্যেককেই মাস্ক ব্যবহার করা, থার্মাল স্ক্রিনিং করা থেকে শুরু করে সামাজিক দূরত্ব মেনে যে পার্কে ঘুরতে হবে সে বিষয়ে অবগত করান হয়। যারা সাফারি উপভোগ করতে যান, তাদের ক্ষেত্রেও বাসের ভেতরে দূরত্ব বজায় রেখে বসতে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, দার্জিলিং চিড়িয়াখানাতে এদিন সব মিলিয়ে ২৫৭ জন বেড়াতে আসেন। সেখানেও কোভিড প্রোটোকল মেনেই সবাইকে ভেতরে ঢোকানো হয়। পার্কের ডিরেক্টর ধর্মদেও রাই বলেন, ‘লকডাউন থাকাকালীনও আমরা সাধারণ মানুষের কাছে এই চিড়িয়াখানাকে পৌঁছে দিয়েছিলাম ভার্চুয়ালের মাধ্যমে। এবার চিড়িয়াখানা খুলে গেছে। এখন থেকে অনলাইনে বুকিং শুরু হয়ে গেছে। সবাই খুব উচ্ছ্বসিত।’’
পাশাপাশি এদিন থেকে শৈলশহরে রোপওয়ে পরিষেবাও চালু হল।