দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান : ঠিক সন্ধে নামার মুখেই কেউ হাতে বোতল নিয়ে, কেউ ক্যান নিয়ে চলে আসছেন বাড়ির দোরগোড়ায়। ফিরে যাচ্ছেন দুধ নিয়ে। গ্রামের ছোটদের যাতে কোনওভাবেই পুষ্টির ঘাটতি না হয়, তারজন্য এগিয়ে এলেন মঙ্গলকোটের দম্পতি। প্রতিদিন প্রায় ৫০ কেজি করে দুধ গ্রামের দুঃস্থ বাচ্চাদের জন্য বিলি করছেন তাঁরা।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকলে আটকানো যাবে করোনা সংক্রমণ। বারবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই কথা। তারজন্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়ারও পরামর্শও দিচ্ছেন। কিন্তু লকডাউনের জেরে কাজ না থাকায় এমন পরামর্শ শুনে চলার ক্ষমতা হারিয়েছে বহু পরিবারই। প্রতিদিন একমুঠো ভাত জোগাড় করতেই নাজেহাল অবস্থা, সেখানে পুষ্টির প্রশ্ন তো অনেক দূরে। কাটোয়া মহকুমার মঙ্গলকোট ব্লকের মুরুলে গ্রামে এই পরিবারগুলির পাশেই দাঁড়িয়েছেন বিশ্বজিৎ দে ও তাঁর স্ত্রী পাপিয়া।
দু ছেলে মেয়েকে নিয়ে স্বচ্ছল সংসার তাঁদের। জমির ফসল, দুধের ব্যবসা থেকে ভালই আয় করেন বিশ্বজিৎবাবু। বাড়িতে অনেকগুলো গরু। কিন্তু লকডাউন শুরু হয়ে যাওয়ায় এখন দুধের ব্যবসা বন্ধ। তাই এতদিন সংসারের জন্য রেখে যে দুধ বিক্রি করতেন এখন সেই দুধই তাঁরা তুলে দিচ্ছেন এলাকার ছোটদের জন্য। বিশ্বজিৎবাবু জানান, তাঁর স্ত্রী পাপিয়াই তাঁকে অনুরোধ করেন ঘরের দুধের পুরোটাই এলাকার শিশুদের মধ্যে বিলি করে দেওয়ার জন্য।
তিনি বলেন, ‘‘লকডাউনের পর থেকে কাজ নেই। তাই এলাকার বহু পরিবারই খাবার জোটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারি ত্রাণ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দান গ্রহণ করে কোনওমতে দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের সংস্থান করছে ওই দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারগুলি। কিন্তু পুষ্টিকর খাবার জোগাড় করা তো অসম্ভব। বাচ্চাগুলিকে দুধের জোগান দিয়ে যদি সেই পুষ্টির কিছুটা অন্তত দেওয়া যায়।’’
স্ত্রীর অনুরোধেই বিশ্বজিৎবাবু গ্রামের আইসিডিএস কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে গ্রামের বাচ্চাদের তালিকা সংগ্ৰহ করেন। তালিকা সংগ্রহ করেন গ্রামের প্রসূতি মায়েদেরও। এখন প্রতিদিন মাথা পিছু ৫০০ গ্রাম করে দুধ বিলি করার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। প্রতিদিন বিকেল গড়ালেই বিশ্বজিৎবাবুর বাড়ির সামনে সারিবদ্ধভাবে এসে দাঁড়ান সবাই। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই। তারপর কেউ বোতলে, কেউ ক্যানে করে দুধ নিয়ে ফিরে যান বাড়িতে। যতদিন অবস্থা স্বাভাবিক না হচ্ছে ততদিন ছোটদের দুধের ব্যবস্থা তাঁরা করবেন বলে জানালেন ওই দম্পতি।