দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি : করোনার মৃদু উপসর্গ থাকলে বাড়িতে থেকেই চিকিৎসার পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘মাইল্ড সিম্পটম থাকলে ঘরে থাকুন। অযথা হাসপাতালের বেড আটকানো যাবে না।’’
মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের দুই জেলা জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে উত্তরকন্যায় বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরবঙ্গের করোনা পরিস্থিতিও নিয়ে চলে আলাপ আলোচনা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সামনেই শারদোৎসব। তাই এই সময় সবাইকেই বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। অসতর্ক হলেও বিপদ বাড়বে। চিকিৎসা কর্মীদেরও সাবধানে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত সবার পরিশ্রমেই উত্তরবঙ্গে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই কোভিড যোদ্ধাদের প্রত্যেকের জন্য আমি গর্বিত।’’
মঙ্গলবার উত্তরকন্যার বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলার প্রশাসনিক কর্তারা। বুধবার কোচবিহার, দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ দিন উত্তরকন্যায় কোভিড প্রোটোকল মেনেই প্রশাসনিক বৈঠক সারেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকের শুরুতেই করোনা মোকাবিলায় দুই জেলার অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা জানিয়ে দেন আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলায় করোনা মোকাবিলার কাজ সন্তোষজনক। মুখ্যমন্ত্রী জানান সকলে করোনা মোকাবিলায় ভাল কাজ করছে।
এই বৈঠকে উদ্বাস্তুদের স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের জমিতে রাজ্য সরকার এদের পাট্টা দিয়েছে, তার সঙ্গে ব্যক্তিগত ও কেন্দ্রীও সরকারের জমিতে থাকা উদ্বাস্তু কলোনিগুলোকেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে।’’
পাট্টা, কাস্ট সার্টিফিকেটের সহ সরকারের কাজ অধিকাংশই অনলাইনে হচ্ছে। মুখমন্ত্রীর নির্দেশে মুখ্যসচিব জানিয়ে দেন রাজ্য জুড়ে ২৮০০ বাংলা সহায়তা কেন্দ্র খোলা হচ্ছে। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় পরিযায়ী শ্রমিকদের কত জনকে কাজ দেওয়া হয়েছে, জেলা শাসকদের কাছে জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। জলপাইগুড়ি জেলায় ২৬ হাজার শ্রমিকের মধ্যে ২০ হাজার জন কাজ পেয়েছে এবং আলিপুরদুয়ারে ১৪৫১৮ জনের মধ্যে সকলকেই কাজে লাগানো গেছে বলে মুখ্যমন্ত্রীকে জানান জেলাশাসকরা।
আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলা সভাধিপতিদের কাছ থেকেও কাজের খতিয়ান নেন মুখ্যমন্তী। তাঁদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘সময় নষ্ট করবেন না, সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ ধূপগুড়িতে কর্মতীর্থের কাজের দেরি হওয়ার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রয়োজনে নিজেদের মাথায় ইট নিয়ে গিয়ে কাজ করতে হবে।’ রাজ্যে গ্রামীণ রাস্তার কাজ কেন্দ্রীয় ভাবে হবে বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বুধবার ১২ হাজার রাস্তার উদ্বোধন করা হবে।