দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: বিন্দিপাড়ায় উন্মাদনা। গালওয়ান উপত্যকায় শহিদ বিপুল রায়ের পূর্ণাবয়ব মূর্তি উন্মোচন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শহিদ বিপুল রায়ের এই মূর্তিই এখনও পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সব চেয়ে উঁচু মূর্তি।
১৬ জুন রাতে লাদাকের গালওয়ান উপত্যকায় চিনে সৈনিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে শহিদ হন আলিপুরদুয়ার জেলার শামুকতলা থানার বিন্দিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিপুল রায়। শহিদের দেহ সৎকারের পরের দিনই বিপুল রায়ের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকার চেক দেয় জেলা প্রশাসন। পরে রাজ্য সরকার বিপুল রায়ের স্ত্রী রুম্পা রায়কে চাকরি দেয়। গালওয়ানে ভারত ও চিনের সংঘর্ষে মৃত্যু হয় এক কর্নেল-সহ ২০ জনের। তাঁদের মধ্যে বিপুল রায় আলিপুরদুয়ারের বিন্দিপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর মূর্তি বসানোর জন্য জুন মাসের শেষে জমি দিয়েছিল সরকার। তখনই জানানো হয়েছিল মূর্তি তৈরির পাশাপাশি বিন্দিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বসবে বিপুল রায়ের স্মারক।
আজ জেলা প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্স কন্যার সামনে প্যারেড গ্রাউন্ডে ২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত শহিদ বিপুল রায়ের মূর্তির আবরণ উন্মোচন করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
আলিপুরদুয়ার শহরে যে তাঁর মূর্তি স্থাপন করা হবে আগেই সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন স্থানীয় বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। সেই প্রতিশ্রুতি মতো আগেই মূর্তির শিলান্যাস করা হয়। শুধু মূর্তি তৈরি করতেই খরচ পড়ে প্রায় দু’ লক্ষ টাকা। বেদী ও তার সৌন্দর্যায়ন প্রভৃতি নানান আনুষঙ্গিক কাজে আরও তিন লক্ষ টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। মূর্তির উচ্চতা ১৬ ফুট। শহিদের মূর্তি বসানোর জন্য তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে আগেই রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়। আজ মুখ্যমন্ত্রী নিজে মূর্তির উদ্বোধন করায় সাড়া পড়েছে গোটা বিন্দিপাড়ায়।