দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: কোভিড আবহে এ রাজ্যের রোগীদের দুর্দশার অন্ত নেই। এমনকি রোগীরা নিয়মিত খাবারও পাচ্ছেন না সরকারি হাসপাতালগুলোতে। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে আলিপুরদুয়ারের তপসিখাতা কোভিড হাসপাতালের আই.সি.সি.ইউ থেকে পালিয়ে গেল এক কোভিড আক্রান্ত রোগী। বছর ৪২এর ওই রোগীর নাম মহম্মদ হানিফ।
হাসপাতালের পিছনের দেওয়াল টপকে পালিয়ে যাওয়ার পর তপসিখাতা গ্রামের একটি বাড়িতে ঢুকে পড়েছিলেন ওই কোভিড আক্রান্ত ব্যক্তি। তারপরই স্থানীয় গ্রামবাসীদের হাতে ধরা পড়েন তিনি। রশি দিয়ে ঘিরে রেখে সেই রোগীকে মাছ ভাত খাওয়ানোর ব্যবস্থা করলেন গ্রামের মানুষেরাই।
খবর পেয়ে হাসপাতালের এক কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছলে গ্রামবাসীরা তাকে মারধোর করেন বলে অভিযোগ।বেগতিক বুঝে আলিপুরদুয়ার থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান আলিপুরদুয়ারের সাব ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার মহম্মদ কুতুবুদ্দিন খান। হাসপাতালের সামনে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়।
এলাকাবাসীরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যান জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকেরাও। নামানো হয় র্যাফ।
অব্যবস্থার অভিযোগ তুলে এদিন গ্রামবাসীরা অনেকক্ষণ হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ দেখান। এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে আলিপুরদুয়ার জেলা স্বাস্থ্য দফতরের ডেপুটি সিএমওএইচ সুবর্ণ গোস্বামী বলেন, "একটি অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটে গেছে। এমন ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে আর না ঘটে সেই দিকে নজর রাখা হচ্ছে। পুলিশকে নিরাপত্তা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের গাইড লাইন মেনে ওই রোগীকে বাড়িতে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।"
সূত্রের খবর অনুসারে ১৮ই অগস্ট জয়গাঁর গুয়াবাড়ি এলাকার মহম্মদ হানিফ মিঞা (৪২) কালচিনির লতাবাড়ি হাসপাতালে জ্বর নিয়ে চিকিৎসা করাতে আসেন। তার কোভিড রিপোর্ট পজেটিভ থাকায় চিকিৎসকেরা তাকে সেই দিনই তপসিখাতার কোভিড হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টা নাগাদ সি সি ইউ থেকে হাসপাতালের বাইরে বেড়িয়ে আসেন এই আক্রান্ত ব্যক্তি। তারপর হাসপাতালের পেছনের দেওয়াল টপক পালিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করেন। হাসপাতালের ১০০ মিটারের মধ্যেই তাকে ধরে ফেলে রশি দিয়ে ব্যারিকেড করে দেন গ্রামবাসীরা। পরে গ্রামেই রান্না করে মাছ ভাত খেতে দেওয়া হয় সেই রোগীকে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুপুর একটা নাগাদ খবর পেয়ে রোগীর পরিবারের লোকেরা ঘটনাস্থলে পৌছায়।দুপুরের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছুটি করিয়ে পেশেন্টকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন রোগীর আত্মীয়রা। তবে ছুটির কাগজপত্রে সইসাবুদ করতে রোগীর পরিবারের লোকজন হাসপাতালে ঢুকলেও ওই রোগী আর হাসপাতালমুখো হন নি। রোগীর ভাই মুসলেম আলি বলেন, " ভাইয়ের খাওয়াদাওয়া নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ওকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি।"
জেলার কোভিড হাসপাতালগুলোর দৈন্যদশা নিয়ে বহুবার আলোচনা হয়েছে। অবস্থা আসলে কতটা খারাপ, এই ঘটনায় সেই ছবিই প্রকাশ্যে এল। গোটা ঘটনায় স্বাস্থ্য দফতরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।