দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo) তৃণমূলে (TMC) যোগ দেওয়ার খানিকক্ষণের মধ্যেই তাঁর রাজনৈতিক জার্সিবদলকে চিকিৎসা বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করলেন তৃণমূলের চিকিৎসক সেলের নেতা ডাক্তার নির্মল মাজি। যেন ফিট সার্টিফিকেট লিখলেন মোদী সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রীর।
এদিন নির্মল বলেন, “বাবুলের জ্ঞান ফিরেছে। ভেন্টিলেটরে ছিলেন। দমবন্ধ, অবরুদ্ধ অবস্থা, স্যালাইন চলছিল, অক্সিজেন চলছিল। ওঁর সোডিয়াম, পটাশিয়াম কম ছিল। তাই ভারতীয় জনতা পার্টিতে থেকে একেবারে ল্যাটা মাছের মতো কাতরাচ্ছিল, চিংড়ি মাছের মতো লাফাচ্ছিল। এবারে এসে নতুন অক্সিজেন পেয়ে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে পেয়ে, দিদির আঁচলে ভাল ভাবে জনসেবার কাজ করতে পারবে, গানটাও করতে পারবে।”
অনেকে বলছেন নির্মল আসলে খোঁচা দিতে চেয়েছেন। কারণ এতদিন নিয়ম করে বাবুল খোঁচা দিতেন তৃণমূলকে, এদিন বোধহয় সেটাই ফিরিয়ে দিতে চাইলেন তিনি। আবার কেউ কেউ বলছেন, নির্মলবাবু ডাক্তার মানুষ। একজন অর্থনীতিবিদ যেমন চিনির কাছে পিঁপড়ের ভিড় করাকে সহজেই অর্থনীতি দিয়ে ব্যাখ্যা করেন নির্মলও তেমন। আসলে তিনি বাবুলের ফিট সার্টিফিকেট লিখলেন। বোঝাতে চাইলেন, বাবুল এতদিন অসুস্থ ছিলেন। আজ থেকে বুক ভরা বাতাস নেবেন।
আরও পড়ুন: বাবুল ‘ভেরি এক্সাইটেড’, কেন? জানালেন সাত প্রশ্নের জবাবে
এই অক্সিজেনের অভাব, দমবন্ধ হওয়া, মুক্ত পরিবেশের বাড়ন্ত দশা বাংলার রাজনীতিতে নতুন নয়। বিধানসভা ভোটের কয়েক মাস আগে থেকেই সেসব শোনা যাচ্ছিল। লাইন দিয়ে তৃণমূলের নেতারা পদ্মপতাকা ধরতে গিয়ে বলছিলেন, ওখানে দম বন্ধ হয়ে আসছে। দলে থেকে কাজ করতে পারছিলাম না। কে ছিলেন না সেই তালিকায়। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সোনালি গুহ, দীনেশ ত্রিবেদী, প্রবীর ঘোষাল, বৈশালী ডালমিয়া, হাওড়ার প্রাক্তন মেয়র রথীন চক্রবর্তী—সে ইয়া লম্বা তালিকা।
ভোট মিটতেই খেলা ঘুরে যায়। এখন দেখা যাচ্ছে বিজেপির নেতারা তৃণমূলে ফিরে বলছেন, দমবন্ধ লাগছিল। পদ্মবনে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা অতিরিক্ত। তার চেয়ে তৃণমূলই ভাল। নির্মল যেন বাবুলের তৃণমূলে যোগদানকে সে ভাবেই দেখাতে চেয়েছেন।
তবে বাবুলকে ল্যাটা মাছ আর চিংড়ি মাছ বলা নিয়ে এক বিজেপি নেতা বিদ্রুপ করে বলেন, “কয়েক বছর আগে বাংলা সিনেমার একটা গান খুব হিট করেছিল। বাবুলকে দেখে সেই গানটা মনে পড়ছে। গভীর জলের ফিশ রে ভাই গভীর জলের ফিশ, পাবলিক তাই নাম দিয়েছে খোকা চারশ বিশ!”
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'