দ্য ওয়াল ব্যুরো, খেজুরি: বিজেপির অঞ্চল মণ্ডল-সভাপতির দোকান পুড়িয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ালো খেজুরিতে। স্থানীয় সূত্রে খবর, রাতের অন্ধকারে খেজুরি ২ ব্লকের কসবা অঞ্চলের বিজেপি নেতা দিব্যেন্দু মিদ্দার জুতোর দোকান পুড়িয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। একই সঙ্গে দোকানের সামনে বোমা ছোড়ে। তবে এতে দোকানের ক্ষতি হলেও কেউ হতাহত হননি।
বিজেপি নেতা দিব্যেন্দু মিদ্দার অভিযোগ, তিনি বিজেপি করেন। তাই স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব সেটা ভালো চোখে নেয়নি। ভোটের আগে এলাকাকে উত্তপ্ত করতে চাইছে তৃণমূল। দুষ্কৃতীদের দিয়ে এই ভাবে বিজেপি নেতাকর্মী ও তাঁদের সম্পত্তির ওপর হামলা চালাচ্ছে। মিদ্দা আরও জানিয়েছেন, শুধু জুতোর দোকানই নয়, সেই দোকানের সঙ্গে লাগোয়া তাঁর স্টেশনারি দোকানটিকেও পুড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। জানা গিয়েছে, কসবা অঞ্চলের লক্ষণচক গ্রামে নারায়ণমোড় এলাকায় এই জুতোর দোকান ছিল ওই বিজেপি নেতার।
তবে এই ঘটনাকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছে তৃণমূল। তাঁদের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনা পুরোপুরি নব্য-পুরনো বিজেপির গোষ্ঠীবিবাদ। খেজুরির তৃণমূল নেতা শ্যামল মিশ্র বলেন, " বিজেপির পুরনো নেতাকর্মীদের সঙ্গে সদ্য বিজেপিতে আসা দাদার অনুগামীদের মধ্যে বিরোধ চরমে উঠেছে। এই ঘটনা তারই ফল। অথচ দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল তৃণমূলের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে মানুষ তা মেনে নেবে না। "
এই ঘটনায় খেজুরির বিজেপি নেতা শুভ্রাংশু দাস বলেন, "ভোট যত এগিয়ে আসছে খেজুরি জুড়ে তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব বাড়চ্ছে। লক্ষণচক গ্রামের বৃহস্পতিবারের এই ঘটনা তারই উদাহরণ। অবশ্য অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে তৃণমূল। তবে এই ঘটনায় ওই বিজেপি নেতার ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।''
তবে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এখন রাজনীতি উত্তেজনা রয়েছে। তৃণমূল-বিজেপি বিবাদ দিনে দিনে বাড়ছে। ভোটের দিনগুলোতে অপ্রত্যাশিত বাড়ার আশংকা করছে স্থানীয়রা। এই সমস্ত টুকরো ঘটনা থেকেই হয়তো বড় ঘটনা ঘটতে পারে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছে পুলিশ। তারা ওই জায়গা খতিয়ে দেখছে।