দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: বিরল এক মানবিকতার সাক্ষী রইলেন ময়নাগুড়ি আনন্দনগরের মানুষ। সাপের প্রাণ বাঁচাতে রীতিমতো অস্ত্রোপচার করলেন এক গ্রামীণ ডাক্তার। ওষুধ আর সেবায় সাড়া দিচ্ছে আহত সাপটিও।
স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে আনন্দপুর এলাকায় একটি র্যাট স্নেক কোনোভাবে আস্ত একটি ফেয়ারনেস ক্রিমের ফাঁকা টিউব গিলে ফেলে। পেটে যাবার পর ঐ টিউব হজম না হওয়ায় পেটের ভেতরেই জমে থাকে। সেই অবস্থাতেই এরপর সাপটি চলাফেরা করতে থাকলে টিউবের নীচের দিকের ধারালো অংশ তার পেট ফুটো হয়ে খানিকটা বাইরে বেরিয়ে আসে। যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ক্ষতবিক্ষত সাপটি ঐভাবেই আনন্দনগর রাধাকৃষ্ণ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় এদিকওদিক ছটফট করছিলো। অসুস্থ সাপটিকে ওইভাবে প্রথম দেখতে পান এলাকার কিছু মানুষ। তারপর তারাই উদ্যোগ নিয়ে খবর পাঠান ময়নাগুড়ির পরিবেশ কর্মী নন্দু রায়কে।
এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে পরিবেশকর্মী নন্দু রায় জানান, "বুধবার বিকেলে আমি লোকমুখে খবর পাই ময়নাগুড়ি আনন্দনগরের রাধাকৃষ্ণ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় সাপ বেরিয়েছে। আমি গিয়ে সাপটিকে উদ্ধার করি। তারপর সাপটির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখতে পাই তার পেট ফুটো হয়ে বেরিয়ে আসছে একটি প্লাস্টিক টিউবের ধারালো অংশ। তৎক্ষণাৎ আমি সাপটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাই স্থানীয় চিকিৎসক চঞ্চল গুপ্তের কাছে। তিনি বলেন অপারেশন করে পেট থেকে টিউবটি বের করতে হবে। নাহলে সাপটির মারা যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর আমরা বনদপ্তরকে জানিয়ে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিই।"
তিনি সাংবাদিকদের আরো বলেন প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুসারে ডাক্তার বাবু সাপের পেটের কেটে যাওয়া অংশটির পাশের চামড়া খানিকটা সরিয়ে নেন। এরপর বেশ কিছুক্ষণ ধরে আস্তে আস্তে ফরসেপ দিয়ে টিউবটিকে টেনে বের করে আনা হয়। তারপর ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে তাতে ভালোভাবে এন্টিবায়োটিক মলম লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করা হয়।
[video width="640" height="352" mp4="https://images1.thewall.in/uploads/2020/09/WhatsApp-Video-2020-09-03-at-18.21.36-1.mp4"][/video]
এটি একটি ফিমেল র্যাট স্নেক। লম্বায় প্রায় ছ'ফুট। অপারেশনের পর তাকে পরিবেশকর্মী নন্দু রায়ের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। আগামী কয়েকদিন সাপটিকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হবে।
তিনি বলেন "এটি একটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা। আমার দীর্ঘ জীবনে আমি কোনোদিন এই ধরনের ঘটনা দেখিনি। এর ক্ষতস্থানে আরো কয়েক দিন ড্রেসিং করতে হবে। সুস্থ হলে তারপর বনদপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হবে। "
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সকালে আবার ড্রেসিং করা হয়েছে সাপটিকে। ক্ষত স্থান শুকোতে শুরু হয়েছে। সামান্য হলেও চলাফেরা করতে পারছে সাপটি। আগের থেকে অনেকখানি সুস্থ হয়ে উঠলেও এক্ষুনি বনকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছেনা আহত সাপটিকে। আরও কিছুদিন তার পর্যবেক্ষণ এবং ড্রেসিং চলবে।