শেষ আপডেট: 27 April 2020 14:28
মুখ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, লক্ষ লক্ষ মানুষকে কোয়ারেন্টাইন করা যায় না, সরকারেরও লিমিট আছে। সেইসঙ্গে তাঁর কথায়, "মানুষ নিজের বাড়িতে থাকলে অনেক ভাল থাকে। হাসপাতালে গেলে অনেক রকম রোগী আসেন, অনেক সমস্যা হয়। কিন্তু ঘরটা নিজের মতো সুন্দর করে পরিষ্কার করে থাকা যায়। হোম কোয়ারেন্টাইন সারা পৃথিবীতে শুরু হয়েছে। কেউ যদি মনে করেন বাড়িতে থেকে ট্রিটমেন্ট করাবেন কোনও অসুবিধা নেই। স্বাস্থ্য দফতর টেলি-চিকিৎসা শুরু করবে।"
তবে এই শর্ত অবশ্যই পর্যাপ্ত থাকার জায়গা যাঁদের আছে, তাঁদের জন্যই প্রযোজ্য। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "যাঁর ঘরে জায়গা নেই, তাঁকে আমি কী করে বলব বাড়িতে আলাদা হয়ে থাকতে। তাঁর তো ক্ষমতা নেই। তাঁর জন্য সরকার ব্যবস্থা করবে। এমনিতেও অনেকেই কোয়ারেন্টাইনে যেতে চাইছে না। মানসিক সমস্যা হচ্ছে অনেকের, দুশ্চিন্তা হচ্ছে। তাই কারও যদি মনে হয় তিনি আক্রান্ত, বাড়িতেই থাকুন। তবে অবশ্যই আমাদের ইনফর্ম করবেন। আমরা গাইডলাইন করে দেব।"
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন সম্পূর্ণ আলাদা। কারও যদি মনে হয় তিনি কোভিড আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন বা তাঁর করোনা হতে পারে, তিনি নিজের ঘরে আলাদা হয়ে থাকলেন, হোম কোয়ারেন্টাইনে সেটা হতেই পারে। কিন্তু কারও যদি কোভিড পজ়িটিভ ধরা পড়ে, সেক্ষেত্রে নিজের ঘরে আইসোলেটেড থাকাটা কতটা বিজ্ঞানসম্মত তা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ আছে।
কারণ হাসপাতালের আইসোলেশন ব্যবস্থাটিই সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে রোগীর নিঃশ্বাসটাও হেপাফিল্টারে ছেঁকে তবেই বাইরে বেরোয়। সেখানে তাঁর সংস্পর্শে যে আসেন, তিনিই পিপিই পরে থাকেন। বাড়িতে এমনটা কখনওই সম্ভব নয়। রোগীকে খেতে দিতে গেলেও কাউকে যেতে হবে রোগীর ঘরে। সেটা ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়।
শুধু তাই নয়। আইসোলেশন ওয়ার্ড নির্দিষ্ট রাসায়নিক দ্রবণে নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরিষ্কার করার কথা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে। তবেই তা জীবাণুমুক্ত হয়। সেই পদ্ধতিও ঘরে মেনে চলা নিশ্চিত করা নাও যেতে পারে।
এই অবস্থায় মন্ত্রীর ঘোষণার পরে অনেকেই মনে করতে পারেন, বাড়িতে আলাদা ঘরে থাকলেই তিনি সেরে উঠবেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে যদি বাড়াবাড়ি হয়, শ্বাসকষ্ট হয়, ইনটেনসিভ কেয়ারের প্রয়োজন হয়, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছনো সম্ভব হবে কি-- উঠেছে সে প্রশ্নও।
এই প্রসঙ্গে টুইট করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ও। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, তাহলে কি হাসপাতালের বেড ভর্তি হয়ে গেছে বলেই মুখ্যমন্ত্রী বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন!
https://twitter.com/SuPriyoBabul/status/1254786902294581249