দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরল, পাঞ্জাবের পর পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্য বিধানসভাতেও পাশ করানো হবে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বিরোধী প্রস্তাব। সোমবার উত্তরবঙ্গ উড়ে যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “আমরা এর আগে এনআরসি এবং নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ করেছি। এখন ওই বিল আইনে পরিণত হয়েছে। তাই সেই আইন প্রত্যাহারের দাবিতে প্রস্তাব আনা হবে বিধানসভায়।”
কেরল বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ হওয়ার পর এখানেও বাম-কংগ্রেসের তরফে দাবি জানানো হয়েছিল বিধানসভায় প্রস্তাব আনার। কিন্তু সেই সময়ে রাজ্য সরকার পদক্ষেপ না নিলেও এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, তিন-চার দিনের মধ্যেই রাজ্য বিধানসভায় এই প্রস্তাব আনা হবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এনপিআর ভীষণ বিপজ্জনক। ওটা দিয়ে এনআরস্যার প্রাথমিক কাজ করে নিতে চাইছে। এটা কখনই মেনে নেওয়া যায় না। যাঁরা বাবা-মায়ের সার্টিফিকেট দেখাতে পারবেন না, তাঁদের বাদ দিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে।" এদিন বিকেলে পাহাড়ে এনআরসি, সিএএ বিরোধী মিছিলে পা মেলানোর কত্যহা মুখ্যমন্ত্রীর। আগামীকাল তাঁর অনুষ্ঠান রয়েছে দার্জিলিং-এর ম্যালে।
সর্বপ্রথম কেরল বিধানসভায় এই প্রস্তাব পাশ হয়। তারপর কেরলের বাম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন সমস্ত অবিজেপি মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠি লিখে আবেদন করেন, তাঁদের রাজ্যেও এই ধরনের প্রস্তাব নেওয়া হোক। বিজয়নের চিঠি এসেছিল মমতার কাছেও। দু'দিন আগে কংগ্রেস শাসিত পাঞ্জাব বিধানসভাতেও সিএএ বিরোধী প্রস্তাব পাশ হয়। এবার সেই তালিকায় নাম যুক্ত হতে চলেছে বাংলার।
যদিও আইন পাশ হয়ে যাওয়ার পর কোনও রাজ্য আইনসভায় এই ধরনের প্রস্তাব নেওয়া যায় কিনা তা নিয়ে বতর্ক আছে। তবে কেরলের ক্ষেত্রে সেখানকার রাজ্যপাল ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। সেখানেও খানিকটা বাংলার মতোই রোজই প্রায় সরকার বনাম রাজভবনের সংঘাত লেগে রয়েছে। এখন দেখার বাংলার বিধানসভার প্রস্তাব পাশের বিষয়টি নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া দেন জগদীপ ধনকড়।