
শেষ আপডেট: 18 November 2020 10:42
বলা হয়, রাজনীতিতে শব্দ হল ব্রহ্ম। বুধবার এই ‘টার্গেট’ শব্দটিকে যেমন নিশানা করেছে তৃণমূল, তেমনই আরও একটি শব্দ বিজেপির গায়ে লেপে বাংলা ও বাঙালিকে বার্তা দিতে চেয়েছে। সেটা কী?
তা হল—‘বহিরাগত’। এই বহিরাগত কারা?
মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠক ছিল। তাতে স্থির হয়, রাজ্যকে সাংগঠনিক ভাবে পাঁচটি জোনে ভাগ করে পাঁচ জন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। ওই পাঁচ নেতার কেউই বাংলার নয়। তাঁরা বাইরের রাজ্যের বিজেপি বা সঙ্ঘের নেতা। বলা হচ্ছে, এঁরা হলেন অমিত শাহর পাঁচ পাণ্ডব—সুনীল দেওধর, বিনোদ তাওরে, দুষ্মন্ত গৌতম, বিনোদ সোনকার ও হরিশ দ্বিবেদী।
এঁদেরই বহিরাগত বলছে তৃণমূল। সুখেন্দুশেখরবাবু এ দিন বলেন, “বাংলায় একটা বহিরাগত বিগ্রেড এসেছে শুনছি৷ তাঁরা দাঙ্গা বাধাতে এসেছেন, নাকি ঘোড়া কেনাবেচা করতে কে জানে! কর্মীদের তাই সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে”। রাজ্যসভায় তৃণমূল উপ দলনেতার দাবি, বাংলায় শান্তি ও সৌভ্রাতৃত্বের পরিবেশ কায়েম করে রেখেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। সেই পরিবেশ ঘেঁটে দেওয়ার বা কোনওরকম বিভাজনের চেষ্টা করা হলে অবশ্যই প্রতিরোধ হবে।
বহিরাগত প্রসঙ্গে বিজেপির অবশ্য পাল্টা বক্তব্য রয়েছে। গেরুয়া শিবিরের মুখপাত্রদের কথায়, “অ্যালকেমিস্ট চিটফান্ড সংস্থার মালিক কেডি সিংয়ের কথা মনে পড়ে? তাঁকে বাংলা থেকে রাজ্যসভায় নির্বাচিত করেছিল তৃণমূল। তিনি কোথাকার লোক ছিলেন? বিজেপি যে পাঁচ জন নেতাকে পাঁচটি জোনের দায়িত্ব দিয়েছে, তারা বহুদিন ধরে রাজনীতি করছেন। দলীয় কর্মী তাঁরা। কিন্তু প্রশান্ত কিশোর ও তাঁর যে বাহিনী বাংলায় তৃণমূলের হয়ে ভোট ম্যানেজ করছেন তাঁরা শুধু বাইরের লোক নন, তাঁরা কেউ রাজনীতিকই নন”।
প্রসঙ্গ : প্রশান্ত কিশোর
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে প্রশান্ত কিশোরের প্রসঙ্গও ওঠে। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে তৃণমূলের এক শ্রেণির নেতা খোলাখুলি অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। এ ব্যাপারে দল কী বলছে? জবাবে সুখেন্দুবাবু বলেন, “এরকম কোনও অসন্তোষের কথা তাঁর জানা নেই। এটা মিডিয়ার তৈরি করা।”
প্রসঙ্গ : শুভেন্দু অধিকারী
রাজ্যের সেচ ও পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, শুভেন্দুকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে তৃণমূলে। গত পরশু শুভেন্দুর সঙ্গে তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়ের বৈঠকও হয়েছে।
তবে এ ব্যাপারে সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, “আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি যে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসের বিশিষ্ট নেতা। দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটির সদস্য। এবং মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী।”