দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপহরণের নাটক করে বাড়ি থেকেই নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে গ্রেফতার হলেন এক স্কুল শিক্ষক ও তাঁর দুই বন্ধু। মুক্তিপণের টাকা নিতে আসতেই পুলিশ তাঁদের তিন জনকে গ্রেফতার করে। তাদের প্রত্যেকেরই বাড়ি সিউড়ি থানার গরুইঝোড়া গ্রামে।
মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে ২৭ জুন দুপুরে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যান গরুইঝোড়া গ্রামের বাসিন্দা আমির খান। তাঁর বয়স ২৮ বছর মতো। তিনি রাজনগরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সেই রাতে বাড়িতে ফেরেননি আমির। অভিযোগ, পরের দিন দুপুরে বাড়িতে ফোন করে জানানো হয় আমিরকে অপহরণ করা হয়েছে। পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিলে তবেই তাঁকে ছাড়া হবে।
আমিরের বাবা অবস্থাপন্ন। রানিগঞ্জে খড়িপুরে গাড়ির যন্ত্রাংশের একটি দোকান রয়েছে তাঁর। মুক্তিপণ সংক্রান্ত ফোন পেয়ে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। ঘটনার কথা জানান সিউড়ি থানায়। তদন্ত শুরু করে পুলিশ। যে নম্বর থেকে মুক্তিপণের টাকা চেয়ে ফোন এসেছিল সেই ফের ফোন করা হয়। রবিবার ব্যাঙ্ক বন্ধ, এই অবস্থায় কী ভাবে টাকা দেওয়া হবে তা জানতে চাওয়া হয়। তখন তারা নগদ টাকা পৌঁছে দিতে বলে। টাকার অঙ্ক কমাতে বলে রফাও হয়। পরে অভিযুক্তরা পাঁচকাঠ নামে একটি জায়গায় টাকা নিয়ে আসতে বলে আমিরের বাবাকে।
বিকেলের দিকে পাঁচকাঠে যান আমিরের বাবা। সেখানে আগে থেকেই ফাঁদ পেতে তৈরি ছিল পুলিশ। সেই টাকা নিতে আসে আমিরের দুই শাগরেদ। তখনই তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। কাছেই একটি বনে লুকিয়ে থাকা আমিরকেও গ্রেফতার করা হয়। আজ সোমবার ধৃতদের সিউড়ি আদালতে তোলা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মূল অভিযুক্ত আমির খান। তাঁর দুই সঙ্গীর নাম সুমন রায় এবং পল্টু মাহারা। সোমবার আদালত তাঁদের তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন৷ সরকারি আইনজীবী চন্দ্রনাথ গোস্বামী বলেন, “পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ছেলেটি নেশা করত তাই ওই টাকা আদায় করতে চেয়েছিল। সেই কারণেই এই অপহরণের ছক কষেছিল। যে ফোন থেকে মুক্তিপণের টাকা চাওয়া হয় সেই ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েক জন যুক্ত আছেন। তাঁদের গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ তাঁদের নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।"
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আমির খান বহু দিন ধরেই নেশাগ্রস্ত। স্কুল থেকে যে টাকা পায় তাতে তার কুলোচ্ছিল না বলেই অপহরণের নাটক করে বন্ধুদের নিয়ে। এই ঘটনায় আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।