দ্য ওয়াল ব্যুরো: পর্যটকদের কথা ভেবে আনলক পর্ব শুরু হতেই স্যানিটাউজ করা শুরু হল বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরকে। আড়াই মাস ধরে লকডাউন চলায় দেশের অন্য সব পর্যটন কেন্দ্রের মতো বন্ধ ছিল মুকুটমণিপুরও। এবার ছন্দে ফেরার আশা করছে দক্ষিণবঙ্গের এই পর্যটনকেন্দ্র।
জল, জঙ্গল আর পাহাড়ি সৌন্দর্যের টানে পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে মুকুটমণিপুরে। এখনও পর্যটক আসা শুরু হয়নি ঠিকই তবে তারা আসার আগে প্রস্তুত হয়ে থাকতে চাইছে মুকুটমণিপুর। প্রশাসন কোনও রকম ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। তাই বুধবার সকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম এই পর্যটন কেন্দ্র জীবানুমুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বিধায়ক ও মুকুটমণিপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যোৎস্না মাণ্ডির উদ্যোগে দমকল কর্মীরা মুকুটমণিপুরের ভিউ পয়েন্ট থেকে শুরু করে জেলা পরিষদের স্টল, নৌকাঘাট, মেন গেট, যুব আবাসন প্রভৃতি জায়গায় জীবাণুনাশক স্প্রে করেন।
করোনা সতর্কতার জন্য লকডাউনে গত প্রায় তিন মাস ধরে পর্যটকশূন্য রয়েছে মুকুটমণিপুর। মুকুটমণিপুরে জলাধার তৈরির সময় থেকে এই ছবি আগে কখনও দেখা যায়নি। ফের নতুন করে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে এটা ভেবেই আপাতত খুশি স্থানীয় বাসিন্দা ও নৌচালক থেকে এই পর্যটন কেন্দ্রের উপরে নির্ভর করে থাকা ব্যবসায়ীরা।
শৌভিক সাহু নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “বাইরে থেকে পর্যটক না এলে ব্যবসা হবে না। এবছর পর্যটক আসার সম্ভাবনা খুবই কম। তার মধ্যেও যদি কিছু বিক্রি হয় সেকথা ভেবে দোকান খুলে রাখছি। দেখা যাক কী হয়।”
মুকুটমণিপুর হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুদীপ সাহু বলেন, “বিগত তিন মাস ব্যবসা বন্ধ। এই মুহূর্তে অনেকে খোঁজ খবর নিলেও কেউ এখানে আসেননি। তবে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমরা সমস্ত রকম ব্যবস্থা করে রাখছি।”
বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডি বলেন, “সম্ভাব্য পর্যটকদের কথা ভেবে দমকল বিভাগের সহায়তায় মুকুটমণিপুরকে স্যানিটাইজ অর্থাৎ জীবাণুমুক্ত করা হল। এখনও পর্যটক না এলেও এবার তাঁরা আসতে শুরু করবেন।”
দমকল আধিকারিক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "খাতড়া দমকল কেন্দ্রের অধীনে আটটি থানা এলাকার সরকারি দফতর ও হাসপাতাল স্যানিটাইজ করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে সেই তালিকায় রয়েছে মুকুটমণিপুরও। এখানকার যেসব এলাকায় জনসমাগম বেশি হয় সেই সব জায়গায় জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়েছে।”