দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েকদিন নির্যাতন করার পরে দেশজোড়া বনধের মধ্যেই বাড়িতে বসবাসকারী পরিচারিকাকে বের করে দিলেন বাড়ির কর্তা ও গিন্নি দু’জনে মিলে। করোনা সংক্রমণ এড়ানোর অজুহাত দিয়ে বের করে দেওয়ার পরে সংবাদমাধ্যমের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি অভিযুক্ত অমিতাভ দত্ত। তাঁর স্ত্রী কেকা বাড়ি থেকে বের হননি।
করোনা সংক্রমণ আটকাতে দেশজুড়ে যখন লকডাউন চলছে তারই মধ্যে মঙ্গলবার এই ঘটনা ঘটেছে বরাহনগরের বন হুগলির লেকপাড়ের আরআইসি মার্কেট এলাকায়। অমিতাভ দত্ত ও কেকা দত্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাতে তাঁরা খেতেও দেননি বছর পঞ্চাশের পরিচারিকা শীলা দেকে। সকাল বেলায় বাড়ি থেকে বের করে দেন কোনও বেতন না দিয়ে। শীলা দের বাড়ি বনগাঁর রেলবাজারে। কয়েক দিন ধরে তাঁর উপরে মানসিক অত্যাচার করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন শীলা দে। তাঁর স্বামী তাপস দে পেশায় ভ্যানচালক।
দিন কুড়ি আগে ৩০০ টাকা রোজে কাজে যোগ দেন শীলা দে। দত্ত পরিবার আগে থেকেই তাঁকে চিনত। আগে বিভিন্ন সময় সমস্যায় পড়লেই শীলাকে বাড়িতে রেখে কাজ করিয়ে নিয়েছেন দত্তরা। কয়েক দিন আগে হঠাৎ দত্তদের প্রকৃত রূপ দেখেন শীলা।
অমিতাভ দত্ত অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক অফিসার এবং তাঁর স্ত্রী কেকা দত্ত অবসরপ্রাপ্ত বিএসএনএল অফিসার। পরিবারটি আর্থিক ভাবে সচ্ছল। কয়েক দিন মানসিক নির্যাতনের পরে সোমবার শীলা দেকে তাঁরা বাড়ির বাইরে বের করে দেন। চারিদিকে যখন বাস ট্রেন সব বন্ধ তখন কি ভাবে বনগাঁয় পৌঁছবেন তিনি? একথা ভেবে কান্নায় ভেঙে পড়েন শীলা দে। তার গ্রামের একজ যিনি ওই পাড়াতেই অন্য একজনের বাড়িতে থাকেন তাঁকে তিনি ঘটনার কথা জানান। তিনিই খবর দেন তাপস দেকে। তাপস দেখা করেন স্থানীয় প্রাক্তন কাউন্সিলর পার্থ সাহার সঙ্গে। পার্থ সাহা সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করেন বরাহনগর থানা ও বনগাঁ থানার সঙ্গে। তাঁদের কাছে মৌখিক আশ্বাস পেয়ে নিজের পয়সায় গাড়ি ভাড়া করে তাপস যান বনহুগলির ঠিকানায়।
সেখানে শীলা দে ও তাপস দের সঙ্গে সথা সম্ভব পৈশাচিক আচরণ করেন অমিতাভ দত্ত। তা চাক্ষুস করেন পার্থ সাহা। তিনি তার প্রতিবাদও করেন। প্রতিবেশীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
অনেক চেষ্টার পরে শীলা দের কুড়ি দিনের বেতন আদায় করে দেন পার্থ সাহা। তাঁদের ফেরার ভাড়াও দেননি। উল্টে বলেন বাসে করে ফিরে যেতে। লকডাউনের সময় বাস বন্ধ তো! একথা বলা হলে অমিতাভ বলেন, “সেটা ওদের ব্যাপার।”
দে দম্পতি এবং পার্থ সাহা মঙ্গলবার দুপুরে বনগাঁয় ফিরে আসেন।