দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার গণপিটুনি প্রতিরোধ বিল পাশ হয়েছে বিধানসভায়। সেই বিলের উপর বক্তৃতা দিতে গিয়েই আচমকা চিট ফান্ড প্রসঙ্গ টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায়। আক্রমণ করেন সিপিএম-কে। প্রশ্ন তুলে বলেন, “সবাইকে ডাকছে, কিন্তু সিপিএম-কে কেন ডাকছে না?” আর মুখ্যমন্ত্রীর এই কথার পরই বাম বিধায়কদের সঙ্গে তুমুল হইহট্টগোল শুরু হয়ে যায় বিধানসভায়।
এ দিন মমতা বলেন, “সারদা কাদের আমলে হয়েছিল? রোজভ্যালি কোন আমলের চিটফান্ড? চিদম্বরম, শারদ পাওয়ার—ওঁদেরকেও টার্গেট করছে। সারা দেশে সব বিরোধী রাজনৈতিক দল আক্রান্ত। সিপিএমের সঙ্গে বিজেপি-র বোঝাপড়া আছে। তাই ওদের ডাকছে না।”
এরপরই উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার শুরু করেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। অন্য বাম বিধায়করাও গলা মেলান সুজনবাবুর সঙ্গে। যাদবপুরের সিপিএম বিধায়ক কার্যত চ্যালেঞ্জের সুরেই মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, “আপনিই তো কমিশন করেছিলেন। হিম্মত হয়েছে কাউকে ধরার। কাউকে ধরতে পারবেন না।” এর মধ্যেই বাম বিধায়কদের বেঞ্চ থেকে এক বিধায়ক চিৎকার করে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, “ও দিদি, ডেলোর মিটিং-এ কী হয়েছিল?” আরপর আরও চটে যান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “আমি মানুষের টাকা ফিরিয়ে দিছিলাম। অনেকের টাকা ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু তখন এখানের দাদারা সুপ্রিম কোর্টে চলে গেল। কিন্তু মানুষের টাকা ফেরত হল না।”
অনেকের মতে মুখ্যমন্ত্রী আসলে ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন বিরোধী দলনেতা তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নানকে। মান্নান সাহেব এ দিন হাউসেই ছিলেন। বাংলার চিটফান্ড তদন্তে সিবিআই তদন্ত চেয়ে শীর্ষ আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন মান্নান এবং বিকাশ ভট্টাচার্য। যদিও এর পর চিটফান্ড প্রসঙ্গ থেকে গণপিটুনি প্রসঙ্গে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী।
সুজনবাবু বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করেছি। পারলে আমাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ করুন। পারবেন না। আসলে উনি এখন নিজে ডাকের আতঙ্কে ভুগছেন। তাই সিপিএমের ভূত দেখছেন।”
লোকসভা ভোটে দেখা গিয়েছে, বামেদের ভোট ঢেলে গিয়ে পড়েছে রামের বাক্সে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই স্লোগান দিয়েছিলেন- দিল্লি থেকে এল রাম, সঙ্গে জুটে গেল রাম। শেষ নির্বাচনে তা একেবারে পরিষ্কার হয়ে যায়। জেলায় জেলায় এমনও দেখা যায়, বিজয় মিছিল থেকে গেরুয়া আবির মেখেই লাল ঝাণ্ডা হাতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সিপিএমের পার্টি অফিস খোলার পর্ব চলছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, কৌশলে মমতা এ দিন আরও একবার বোঝাতে চাইলেন, বিজেপি আর সিপিএমের গোপন বোঝাপড়া আছে।