দ্য ওয়াল ব্যুরো, কাটোয়া: আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলায় কাটোয়া পুর এলাকায় আংশিক লকডাউন ঘোষণা করল প্রশাসন। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুর প্রশাসন ও মহকুমা প্রশাসনের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সকাল দশটার পর থেকে বাজার বসবে না। বিকেল পাঁচটা থেকে পরের দিন সকাল ছটা পর্যন্ত জরুরি ছাড়া অন্য সব পরিষেবা বন্ধ রাখা হবে। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অর্ধেক দোকান খোলা থাকবে। যদিও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস ও ফেরি চলাচলে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
কাটোয়া পুর এলাকায় নানা ভাবে প্রচার করা হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। করোনা ভাইরাস রুখতে যে সব নিয়ম করা হয়েছে তা অগ্রাহ্য করছেন সাধারণ মানুষ। মহকুমা পুলিশ প্রশাসন মেনে নিয়েছে যে তাঁরা মানুষকে বুঝিয়ে উঠতে ব্যর্থ হয়েছেন। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে এখন বাধ্য হয়েই লকডাউনের রাস্তায় যেতে হচ্ছে প্রশাসনকে।
আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলায় শুক্রবার তড়িঘড়ি আলোচনায় বসে প্রশাসন। বৈঠকে ছিলেন কাটোয়ার মহকুমাশাসক প্রশান্তরাজ শুক্লা, কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পূর্ব বর্ধমান গ্রামীণ, কালনা-কাটোয়া) ধ্রুব দাস এবং কাটোয়া ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরা। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় ১৯ জুলাই বিকেল পাঁচটা থেকে ৩১ জুলাই রাত পর্যন্ত পুর এলাকায় আংশিক লকডাউন করা হবে।
সিদ্ধান্ত হয়েছে এই ক’দিন বাজার খোলা থাকবে সকাল ছ’টা থেকে বেলা দশটা অবধি। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে প্রতিদিন ৫০ শতাংশ করে দোকান খোলা থাকবে। পাশাপাশি দুটি দোকান খোলা রাখা যাবে না। সময় বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। বাজারের ক্ষেত্রেও ৫০ শতাংশের এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে। মাছ ও মাংসের ক্ষেত্রে তিন থেকে চার ফুট দূরত্ব বজায় রেখে ব্যবসা করা যাবে তবে সকাল দশটা পর্যন্ত। রবিবার সব বন্ধ রাখা হবে।
ছাড় দেওয়া হয়েছে ওষুধের দোকান ও অ্যাম্বুল্যান্সকে। জরুরি দরকারে বা কোনও রোগীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়িকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া কাটোয়ার সঙ্গে নদিয়ার বল্লভপাড়ার মধ্যে নৌকা পরিষেবা চালু থাকবে সকাল ছ’টা থেকে থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। বাসও চালু থাকবে এই সময়ের মধ্যে।
কাটোয়া থানা এলাকায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩১।