দ্য ওয়াল ব্যুরো: একা করোনায় রক্ষে নেই আমফান দোসর!
হাওয়া অফিসের যা পূর্বাভাস তাতে আগামীকাল, বুধবারই ভূখণ্ডে আছড়ে পড়বে সুপার সাইক্লোন আমফান। ঠিক তার আগের দিন অর্থাৎ আজ মঙ্গলবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাইক্লোন নিয়ে ফোনে কথা বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন সকালে শাহ ফোন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে। উপকূল এলাকার প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে রয়েছে তা নিয়েই বেশ কিছুক্ষণ কথা হয় দু'জনের। সূত্রের খবর, দুর্যোগ মোকাবিলায় সব রকম কেন্দ্রীয় সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গতকালই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, পূর্ব মেদিনীপুর ও দুই চব্বিশ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকার মানুষকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে সাইক্লোন শেল্টারে রাখার কাজ শুরু হয়েছে। গতকালই দিঘা সহ সন্দেশখালি, সুন্দরবন, কাকদ্বীপের মতো উপকূল এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল।
ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে আমফান। মঙ্গলবার সকলে মৌসম ভবন জানিয়েছে, ঘণ্টায় ১৪ কিলোমিটার বেগে ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে আসছে আমফান। গত রবিবার বিকেলে যার গতি ছিল প্রতি ঘণ্টায় ৯ কিলোমিটার। ভূখণ্ডের যত কাছাকাছি আসছে গতি তত বাড়ছে বলে জানিয়েছে আইএমডি-ও।
গতবছর জোড়া দুর্যোগের মধ্যে পড়েছিল বাংলা। প্রথমে ফণী এবং তারপর বুলবুল। কিন্তু দুই দুর্যোগই তেমন প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারেনি। কারণ আগে থেকেই মানুষকে সরিয়ে অন্যত্র রাখার বন্দোবস্ত করেছিল রাজ্য। কিন্তু এবার করোনা নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টিও প্রশাসনকে মাথায় রাখতে হচ্ছে। তাই সাইক্লোন শেল্টারে একসঙ্গে অনেক মানুষকে এনে রাখার ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি করেছে কোভিড-১৯ সংক্রমণ।
আমফান নিয়ে গতকাল বিপর্যয় মোকাবিলা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুধু বাংলা নয়, ওড়িশার উপকূলবর্তী ১২টি জেলাতেও লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে শতাব্দীর প্রথম সুপার সাইক্লোন নিয়ে। আবহাওয়াবিদদের বক্তব্য, যে ভাবে গত ৪৮ ঘণ্টায় আমফান শক্তি সঞ্চয় করেছে তাতে বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
শুধু তাই নয়, ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। লকডাউনের ফলে ক্ষেতমজুরের সঙ্কট তৈরি হয়েছে বিভিন্ন জেলায়। ধান কাটা হলেও দুই বর্ধমান, হুগলিতে বিস্তীর্ণ অংশে তা মাঠেই পড়ে রয়েছে। কারণ সব জায়গায় হারভেস্টারের ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে সব মিলিয়ে আমফান নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে রাজ্যে।