দ্য ওয়াল ব্যুরো: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রিসভা যা লিখে দেবেন, তিনি বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তাই পড়ে যাবেন—এমনটা যে নাও হতে পারে বুধবার সে ব্যাপারে পরিষ্কার ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। এবং এও জানিয়ে দিলেন, সরকার বক্তৃতার যে খসড়া তাঁকে পাঠিয়েছে তা তিনি পড়ে দেখবেন। কোনও ব্যাপারে আপত্তি থাকলে বা তাঁর নিজের কিছু যোগ করার থাকলে তা সরকারি ভাবে জানাবেন রাজ্য সরকারকে।
বাজেট অধিবেশনের সময়ে রাজ্যপালের ভূমিকা কী হবে তা নিয়ে এমনিতেই নবান্নের অনেক কর্তার মধ্যে আশঙ্কা ছিল। ফলে রাজ্যপালের এই অবস্থান সরকারের অন্দরে উদ্বেগ আরও বাড়াল বলেই মনে করা হচ্ছে।
মাত্র মাস খানেক আগেই দেখা গিয়েছিল রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় চিঠি পাঠিয়ে মুখ্য সচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজিকে রাজভবনে ডাকলেও তাঁরা যাচ্ছেন না। এমনকি চিঠির উত্তরও দিচ্ছেন না। কিন্তু গত সাত দিন ধরে আচমকাই বদলে গেছে ছবিটা। দেখা যাচ্ছে, পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র, মুখ্য সচিব রাজীবা সিনহারা ঘন ঘন যাচ্ছেন রাজভবনে। দেড় ঘন্টা-দু’ঘন্টা ধরে চলছে সেই সব বৈঠক।
কিন্তু হঠাৎ কেন রাজ্যপালের এত দরকার পড়ল সরকারের? কারণ, রাজনৈতিক ভাবে তৃণমূল তো তাঁকে উপেক্ষা করে চলারই অবস্থান নিয়েছে। নাম না করেও মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বিজেপির মুখপাত্র বলেছেন। শাসক দলের মধ্যে থেকে অনেই আবার জোকার বলেছেন ধনকড়কে।
ঘটনা হল, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। রাজ্য বাজেট পেশ হবে ১০ তারিখ। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী বিধানসভায় রাজ্যপালের বক্তৃতা দিয়ে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। তবে রাজ্যপালের সেই বক্তৃতার বয়ান লিখে দেয় রাজ্য সরকার। রাজ্য মন্ত্রিসভায় সেই বক্তৃতার খসড়া অনুমোদিত হয়।
এতদিন পর্যন্ত দেখা যেত, সরকার যে বক্তৃতা লিখে দেয় রাজ্যপাল তা নিয়ে খুব একটা আপত্তি করেন না। এমনকি সেই বক্তৃতায় রাজ্যে বর্তমান সরকার সম্পর্কে প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রশংসা থাকলেও তা নিয়ে আপত্তি করেন না। কেন না কোনও রাজ্যপালই এ ব্যাপারে শাসক দলের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চান না। কিন্তু কেন্দ্রে মোদী জমানায় অনেক কিছু বদলে যাওয়ার মধ্যে অন্যতম হল রাজ্যপালদের ভূমিকা।
দেখা যাচ্ছে, তথাগত রায়, আরিফ মহম্মদ খান, জগদীপ ধনকড়ের মতো রাজ্যপালরা এমন সব মন্তব্য প্রকাশ্যে করছেন, যাতে অনেকের সন্দেহ হচ্ছে যে তাঁরা রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা নিয়ে কাজ করছেন। যেমন কেরলের বাজেট অধিবেশন শুরুর দিনে সেখানকার রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান সরকারের লিখে দেওয়া পড়েছেন ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে বলেছেন-আমাকে পড়তে হবে বলে পড়েছি, এগুলো আমার কথা নয়।
সেই সব দেখেই ধনকড়কে নিয়েও উৎকন্ঠা ছিল নবান্নের কারও কারও মধ্যে। তাই রাজভবনের প্রতি হঠাৎই নরম হয় নবান্ন। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অমিত মিত্ররা তাঁর সঙ্গে দেখা করে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করতে উদ্যোগী হন।
কিন্তু এর পরেও বুধবার রাজ্যপাল বলেন, সরকারের মন্ত্রী ও আমলারা যে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন তা ইতিবাচক। গতকাল মুখ্য সচিব রাজব সিনহা এসেছিলেন, ওনার সঙ্গেও দু’ঘন্টা কথা হয়েছে। খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা চলেছে। তবে কী কথা হয়েছে তা অবশ্য বাইরে বলা যাবে না। তা সরকার ও আমার মধ্যে ব্যাপার। তবে এটা বলব যে, মতান্তর হলেও যেন সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
এরই পাশপাশি রাজ্যপাল জানান, সরকারের লিখে দেওয়া খসড়া বক্তৃতা পেয়েছি। তা নিয়ে আমার বক্তব্য শিগগির সরকারকে ফর্মালি জানাব। দেখা যাক তার পর সরকার কী জানায়।