দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঝেরহাটে সেতু ভাঙার পিছনে কাদের গাফিলতি ছিল তা নিয়ে শুরু হয়েছিল তদন্ত। সূত্রের খবর, সেই তদন্তে উঠে এসেছে পূর্ত দফতরের পাঁচ ইঞ্জিনিয়ারের গাফিলতির কথা। জানা গিয়েছে, এই তালিকায় রয়েছেন, অর্থ দফতরের তিনজন অফিসারও।
সেতু ভেঙে পড়ার পরেই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু হয়েছিল। কিন্তু কাদের বিরুদ্ধে এই মামলা রুজু হয়েছিল তা স্পষ্ট ছিল না। কারণ প্রাথমিক ভাবে জানা যায়নি যে ঠিক কাদের গাফিলতির কারণে ভেঙে পড়েছিল এই ব্রিজ। তবে রেল-নবান্ন পারস্পরিক দোষারোপের পালা শেষ হয়েছে শুক্রবারই। কাদের গাফিলতি ছিল প্রকাশ্যে এসেছে সেই তথ্য। আর এর পর থেকেই বিভিন্ন মহলে ঘুরছে একটাই প্রশ্ন। তাহলে কী এ বার এই পাঁচজনের বিরুদ্ধেই মামলা রুজু করবে রাজ্য সরকার?
মাঝেরহাট সেতু ভেঙ্গে পড়া নিয়ে হাইপাওয়ার কমিটির রিপোর্ট হাতে পেয়ে শুক্রবারই সাংবাদিক সম্মেলন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাফ জানিয়ে দেন, “পূর্ত দফতর দায় এড়াতে পারে না।”
শুক্রবার নবান্নের বৈঠকে মমতা বলেন, "মাঝেরহাট সেতু রক্ষণাবেক্ষণে ওদের (পড়ুন পূর্ত দফতরের) গাফিলতি ছিল। ফাইল চালাচালিতে সময় গেছে।” পরে অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী এ-ও বলেন যে, পূর্তমন্ত্রীর কাছে ফাইল যায়নি। একটা অংশের সরকারি অফিসারদের মধ্যে ফাইল চালাচালি হয়েছে। তবে এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মেট্রো কম্পনের কথা আরও একবার উল্লেখ করেন। পূর্ত দফতরের গাফিলতির পরেও মেট্রো প্রকল্পের কম্পন আরও একটি কারণ বলে কমিটি রিপোর্টে উল্লেখ করেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছে, সোমবার ১৭ সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু হবে ব্রিজ ভাঙার কাজ। তবে ব্রিজের যে অংশ রেললাইনের উপর দিয়ে গেছে সেই অংশ ভাঙতে শুরু করলে রেল পরিষেবা ব্যহত হবে। দুর্ভোগে পড়বেন নিত্যযাত্রীরা। তাই ওই অংশের ব্রিজ ভাঙার ব্যাপারে ইতিমধ্যেই রেলের সঙ্গে কথা বলেছে রাজ্য। নবান্ন সূত্রে খবর, রেলের অনুমতি পেলেই ওই অংশের ব্রিজ ভাঙার কাজও শুরু হবে। তবে সোমবার থেকে মাঝেরহাট ব্রিজের বাকি অংশ ভাঙা হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।