দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হবে না কে বলছেন, ববি হাকিম না বিমান বসু!
যে স্লোগানে সিপিএম প্রায় পেটেন্ট নিয়ে ফেলেছিল, একুশের মঞ্চে সেই স্লোগানই শোনা গেল রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বললেন, “উপরে উপরে হিন্দু-মুসলমান করছে। আসলে আমেরিকার কাছে দেশটাকে বিক্রি করতে চাইছে। বিজেপি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দালাল। দেশতাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে তুলে দিতে চাইছে।” একই সঙ্গে বন্দরের নেতা বলেন, “বাংলা বাঁচাতে, দেশ বাঁচাতে তৃণমূলের লড়াই চলছে এবং চলবেও।”
একটা সময়ে অলিতে গলিতে সিপিএমের দেওয়াল লেখার বয়ান ছিল, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও।’ ছাত্রফ্রন্ট কিংবা যুবফ্রন্টের উদ্যোগে বছরে একটা বা দুটো মার্কিন এম্ব্যাসি অভিযান ছিল বাঁধাধরা। নিন্দুকরা অনেকেই বলেন, গঙ্গায় ইলিশ কম উঠলেও আলিমুদ্দিন স্ট্রিট মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দোষ দেখে!
ইউপিএ-১ সরকারে বাইরে থেকে সমর্থন করেছিল সিপিএম তথা বামেরা। কিন্তু সাড়ে চার বছরের মাথায় ১-২-৩ পরমাণু চুক্তি নিয়ে সঙ্ঘাত চরমে ওঠে সিপিএম এবং কংগ্রেসের। প্রকাশ কারাটরা অভিযোগ করেছিলেন, এই চুক্তির নামে দেশের সার্বভৌমত্বকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে সঁপে দিচ্ছেন মনমোহন সিং, সনিয়া গান্ধীরা। তুলে নেন সমর্থন। কিন্তু সেই সিপিএমের স্লোগানই যে তৃণমূলের গলায় শোনা যাবে তা কে জানত!
এমনিতেই বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে বাম কংগ্রেসকে যে এক জায়গায় চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা আগেই খোলসা করেছেন। বিধানসভার বাদল অধিবেশনেই বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান এবং সুজন চক্রবর্তীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “মান্নানভাই, সুজন দা, এখন আমাদের একসঙ্গে আসা দরকার।” এ দিনের সমাবেশেও দিদি বলেছেন, “সিপিএম, কংগ্রেসকে বলছি। যে ডালে বসে আছো সেই ডাল কেটো না। আমাদের সমর্থন করতে হবে না। কিন্তু বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াই করো।”
পর্যবেক্ষকদের অনেকেরই প্রশ্ন, বাংলায় গেরুয়া উত্থান দেখে কি ববি সাবেক বাম স্লোগান উচ্চারণ করে আদর্শবাদী বামেদের পাশে পেতে চাইলেন?