দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলিমুদ্দিন স্ট্রিট আর বিধানভবন জট কাটাতে পারেনি। সিপিএম যেমন বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে দরবার করেছিল, ঠিক তেমনই রায়গঞ্জ আর মুর্শিদাবাদ আসনের জট নিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। শুক্রবার পর্যন্ত সেই জট পেকেই রয়েছে। আর তার মধ্যেই রায়গঞ্জের সিপিএম সাংসদ তথা দলের পলিটব্যুরোর সদস্য প্রকারান্তরে কংগ্রেসকে ‘এঁড়ে’ বলে তোপ দাগলেন।
এ দিন রায়গঞ্জে সেলিম বলেন, “কথা হয়েছিল যার যেটা জেতা আসন, সে সেখানে একে অন্যের বিরুদ্ধে লড়বে না। এটাই ভদ্রলোকের চুক্তি। ২০১৬ সালেও একইভাবে আসন সমঝোতা হয়েছিল। এখন কংগ্রেস যেটা করছে সেটাকে এঁড়েপনা বলে।” প্রসঙ্গত, চোদ্দর ভোটে বাংলায় কংগ্রেস চারটি এবং বামেরা দুটি আসন জিতেছিল। রায়গঞ্জে সেলিম জিতেছিলেন দেড় হাজার ভোটের কম ব্যবধানে। কংগ্রেসের বক্তব্য, ওই আসনে এ বার সিপিএম কিছুতেই জিততে পারবে না। কিন্তু নিজেদের জেতা দুটি আসন ছাড়তে রাজি নয় আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। এ কথা স্পষ্ট করেছেন সীতারাম ইয়েচুরিও। সিপিএম নেতৃত্বের বক্তব্য, “এই পরিস্থিতিতে যদি জেতা দুটি আসন ছেড়ে দেওয়াই হয় কংগ্রেসকে, তাহলে কর্মীদের মনোবল ধাক্কা খাবে।”
সেলিম ব্যখ্যা করে বলেন, কে কত ভোটে জিতল সেটা মাপকাঠি নয়। কার জেতা আসন সেটাই মাপকাঠি। তাঁর কথায়, ষোলর ভোটে কালিয়াগঞ্জ এবং গোয়ালপোখর আসন কংগ্রেসকে ছাড়া হয়েছিল। কিন্তু সে বার ১১-র বিধানসভার নিরিখে আসন ভাগাভাগি হয়েছিল। চোদ্দর ভোটের নিরিখে নয়।
কংগ্রেস অবশ্য অন্য অঙ্ক কষছে। তাদের বক্তব্য, প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সির মৃত্যুর পর এ বার প্রথম ভোট। ফলে দীপা দাসমুন্সি দাঁড়ালে একটা আবেগ কাজ করবে। কিন্তু সিপিএম সে যুক্তি মানছে না। এ দিন বীরভূমে সূর্যকান্ত মিশ্রও একই কথা বলেন। তাঁর কথায়, জেতা আসন না ছাড়লে আসন সমঝোতা হবে না। পর্যবেক্ষকদের মতে, এতদিন আলোচনার স্তরে থাকলেও এ বার বিরূপ মন্তব্য করা শুরু হয়ে গেল। ফলে অনেকেই মনে করছেন, সীতারাম-রাহুল সমাধান সূত্র না বের করলে, লোকসভা ভোটে বাংলায় বাম-কংগ্রেস আসন সমঝোতার বিষয়টি জটিল হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা।