দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের এটাওয়ায় লখনৌ-দিল্লি সড়কে গাড়ি দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক ও কলকাতার বাসিন্দা। মৃতদের পরিচয় উদ্ধার করে এটাওয়ার ছাবিয়া থানার পুলিশ যোগাযোগ করে তমলুকে, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে। পরিবারের চারজন দেহ আনতে ছাবিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেছেন।
মৃতদের নাম শ্রীকান্ত মাইতি (৫১), কবিতা মাইতি (৪৬), তাঁদের মেয়ে অনন্যা মাইতি বিশ্বাস (২৮) ও অনন্যার স্বামী অরিজিৎ বিশ্বাস (৩০)। বছর দুয়েক আগে অনন্যা ও অরিজিতের রেজিস্ট্রি হয়, একবছর আগে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁদের বিয়ে হয়েছে। কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকতেন আদতে টালিগঞ্জের বাসিন্দা পেশায় ইঞ্জিনিয়ার অরিজিৎ। শ্রীকান্ত মাইতি পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা শাসকের অফিসে ভূমি ও ভূমি সংস্কার বিভাগে চাকরি করতেন, স্ত্রীকে নিয়ে তমলুকে থাকতেন। তাঁর আদি বাড়ি মহিষাদল থানার অমৃতবেড়িয়ায়।
মেয়ে-জামাইয়ের কাছে কাছে গত ৭ মার্চ বেড়াতে গিয়েছিলেন শ্রীকান্ত ও কবিতা। দিল্লি থেকে একটি গাড়িতে তাঁরা বেড়াতে যান লখনৌ। সেখান থেকে ওই গাড়িতেই তাঁরা এরাজ্যে আসছিলেন। ফেরার পথে কাল রাত দশটা নাগাদ দুর্ঘটনা ঘটে। তাঁদের গাড়িটি কোনও ভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেলারে ধাক্কা মারে। তবে কেন গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল সেকথা এখনও জানা যায়নি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পিছনের সিটে বসা তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গাড়ির চালক ও অনন্যাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভোররাতে তাঁদের মৃত্যু হয়।
মৃতদের পরিচয় উদ্ধার করে তমলুকে শ্রীকান্ত মাইতির এক বন্ধুকে ফোন করে দুঃসংবাদ জানায় এটাওয়া জেলা পুলিশ। তাঁরা ছবি পাঠিয়ে মৃতদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হন। তারপরে খবর দেন পরিবারের লোকজনকে।
দোল উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান চলাকালীন এই খবর আসে। খবর পাওয়ার পরে মহিষাদল থেকে তমলুকের ডিএম কোয়ার্টার্স এলাকায় আবাসনে চলে আসেন বেশ কয়েকজন আত্মীয়। তিনজন কলকাতা থেকে বিমানে রওনা হয়ে যান। এক আত্মীয় সেখানে যান বেঙ্গালুরু থেকে।
পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, দেহগুলি ফিরিয়ে আনা হবে। শ্রীকান্ত ও কবিতার দেহ আনা হবে তমলুকে, অরিজিতের দেহ পাঠানো হবে টালিগঞ্জে। অরিজিতের পরিবার রাজি হলে অনন্যার দেহও তমলুকে আনতে চান তাঁর পরিবারের লোকজন।
আচমকা মৃত্যু সংবাদ পেয়ে শ্রীকান্তর আত্মীয়-পরিজন কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।