দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: দুর্গাপুরের পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা বিজেপি কর্মী স্বরূপ সৌ খুনের ঘটনা নতুন মোড় নিল। দুর্গাপুর কমিশনারেট সূত্রে খবর, পুলিশ জানতে পেরেছে, রাজনৈতিক কারণে নয়। স্বরূপকে খুন করা হয়েছে পারিবারিক কারণে। পুলিশ সূত্রে খবর, মা ও দাদা ভাড়াটে খুনি লাগিয়ে ছোট ভাই স্বরূপকে খুন করিয়েছে।
চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের তদন্তকারী অফিসারদের হাতে ৷ জানা যাচ্ছে, সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের কারণেই ভাড়াটে খুনি দিয়ে স্বরূপ সৌকে হত্যা করিয়েছে তাঁর মা সুলোচনা সৌ ও দাদা অরূপ সৌ ৷ তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ সুলোচনার ব্যাঙ্কের পাস বই ও চেক বই পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে ৷
৯ নভেম্বর দুর্গাপুরের লাউদোহার প্রতাপপুর পঞ্চয়েত অফিসের সামনের ঝোপ থেকে বিজেপি কর্মী স্বরূপের দেহ উদ্ধার হয় ৷ সেই ঘটনায় রাজনৈতিক রং লেগে যায়। বিজেপির তরফে দাবি করা হয় তৃণমূলের গুন্ডারাই তাঁকে খুন করেছে। ১০ নভেম্বর দুর্গাপুর ও আসানসোলের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে গেরুয়া শিবির ৷ নেতৃত্ব দেন রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় ৷
তবে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, সম্পত্তি নিয়ে মা ও দাদার সঙ্গে বচসা চলছিল স্বরূপের ৷ সেই থেকেই স্বরূপকে খুনের পরিকল্পনা করে তাঁর মা ও দাদা ৷ এনিয়ে দুর্গাপুর আসানসোল কমিশনারেটের ডিসিপি অভিষেক গুপ্তা বলেন, স্বরূপের মা সুলোচনা সৌ ও তাঁর দাদা অরূপ সৌ খুনের কথা স্বীকার করেছে। তারা কালীনগর এলাকার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সুদয় মোহন্তকে সুপারি দেয় ৷ সুদয়কে এক লাখ টাকা অগ্রিম দেয় সুলোচনা৷
এরপর সুদয় মোহন্ত আরেক দুষ্কৃতীকে স্বরূপ সৌকে খুনের সুপারি দেয়। স্বরূপকে খুনের জন্য দু’লাখ টাকায় রফা করেছিল তাঁর দাদা ও মা ৷ এই ঘটনায় সুদয় মোহন্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ৷ তাকে জেরা করে আরেক অভিযুক্তের খোঁজ চালাচ্ছেন তদন্তকারী অফিসাররা ৷
তবে, স্বরূপ খুনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ বিজেপি তুলেছিল তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে জানাল পুলিশ৷