দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারতকে রাজ্যের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের টুকলি বলে গত লোকসভা ভোটের সময়েই কটাক্ষ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার অমিত শাহের ভার্চুয়াল জনসভার পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক করে প্রায় একই ভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাল তৃণমূল। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র, রাজ্য সভার দুই সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী ও ডেরেক ও'ব্রায়েন বললেন, অমিত শাহ নকল করতে ভালবাসেন।
এদিন অমিত মিত্র বলেন, "২০১৬ সালে সরকারে আসার পরেই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। আজ সেই প্রকল্পের সুবিধা পান রাজ্যের সাড়ে সাত কোটি মানুষ।" এদিন ভার্চুয়াল জনসভায় স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প বাংলায় বাস্তবায়িত হতে না দেওয়া নিয়ে তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন অমিত শাহ।
পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফেরানো নিয়ে নবান্নের অনীহার অভিযোগ করেছিলেন অমিত শাহ। পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন, যেখানে উত্তরপ্রদেশে গিয়েছে ১৭০০টি শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন, বিহারে গিয়েছে ১৫০০টি, সেখানে বাংলায় এখনও পর্যন্ত ২৩৭টি ট্রেন ঢুকেছে। শ্রমিক স্পেশালকে মুখ্যমন্ত্রীর করোনা এক্সপ্রেস কটাক্ষ নিয়েও ঝাঁঝালো আক্রমণ করেন শাহ। বলেন, "ওই করোনা এক্সপ্রেসই তৃণমূলকে এক্সিট গেট দেখাবে। শ্রমিক-মজুররা কিচ্ছু ভোলেন না।"
মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল নেতারা বলেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য এক পয়সা খরচ করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। সেইসঙ্গে তাঁরা এও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনার অভাবের কারণেই ভিন রাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিকদের চূড়ান্ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে এবং হচ্ছে। শ্রমিকদের নিয়ে ছেলেখেলা করেছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার।
তৃণমূল আরও বলেছে, গোটা বক্তৃতায় অমিত শাহ হাজারো অসত্য তথ্য দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী তথা খড়দহের বিধায়ক বলেন, "অমিত শাহ বলেছেন রাজ্যে নাকি কেন্দ্রের টাকায় দশ কোটি শৌচালয় হয়েছে। এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যে। রাজ্যে শৌচালয় হয়েছে ১.৩৪ কোটি।"
উমফান পরবর্তী সময়ে রাজ্যে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া নিয়েও এদিন রাজ্যের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করেন শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই বক্তব্যকে খণ্ডন করতে গিয়ে তৃণমূলের তরফে পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হয়, ২০১১ সালে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হলেন, তখন রাজ্যে বিদ্যুতের উপভোক্তা সংখ্যা ছিল ৭৫ লক্ষ। এই ন'বছরে.সেটা বেড়ে হয়েছে দু'কোটি। তা ছাড়া শাসকদলের তরফে আরও বলা হয়, ২০১১ থেকে ১৯ পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতে কেন্দ্রের থেকে বাংলা পেয়েছে পাঁচ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। আর রাজ্য সরকার খরচ করেছে ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।