দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিনেমা দেখানো নিয়ে বচসার সূত্রপাত। আর তা থেকে বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল সাংসদ মালা রায়ের অনুগামীদের মধ্যে তুমুল গণ্ডগোল দেখল কলকাতা। বিদ্যুৎমন্ত্রীর অভিযোগ, মালা রায়ের অনুগামীরা তাঁকে ধাক্কাধাক্কি পর্যন্ত করতেও ছাড়েনি। তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করেছেন রাসবিহারীর বিধায়ক।
তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রকাশ্য রাস্তায় দলের দুই শীর্ষস্থানীয় নেতানেত্রীর অনুগামীদের প্রকাশ্যে এমন কোন্দলের ঘটনা কানে গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। ঘটনাস্থল থেকে তাঁর বাড়ি থেকেও দূরে নয়। জানা গিয়েছে গোটা ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী।
দলের মধ্যেও এ নিয়ে ছি ছি পড়ে গিয়েছে। তৃণমূলের উপরের সারির অনেক নেতার কথায়, লোকসভা ভোটে দল ধাক্কা খাওয়ার পর দিদি যখন ভাবমূর্তি ফেরানোর চেষ্টা করছেন, তখন ভর কলকাতার বুকে এই ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। বড়রাই যদি এরকম করে, তাহলে ছোটরা শিখবে কী!
কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব উপলক্ষে পাড়ায় পাড়ায় সিনেমা দেখানোর কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। শোভনদেববাবু বলেন, “সরকার আমাদের বলেছিল, সরকারের লোকজনই সব ব্যবস্থা করেছিল। আমরা শুধু সাহায্যের জন্য ছিলাম।” তিনি বলেন, “সন্ধে ছটায় সিনেমা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুরসভার লাইট অফ হচ্ছিল না বলে সিনেমা দেখানো যাচ্ছিল না। এরপর পুরসভাকে জানাই। মালা রায়ের অফিসেও আমাদের ছেলেরা জানায়। কিন্তু বলে দেওয়া হয় লাইট বন্ধ করা যাবে না।” বিদ্যুৎমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “মালা রায় নির্দেশ দিয়েছিলেন লাইট বন্ধ না করার। যাতে সিনেমা না দেখানো যায়।” তিনি জানান, আলো নিভছে না দেখে মঙ্গলবার পৌনে সাতটা নাগাদ তাঁর অনুগামীরাই আলো বন্ধ করে দেন। এরপর নাকি মালা রায় লোক পাঠিয়ে আবার ওই আলো জ্বালিয়ে দেন। এরপরই শুরু হয় গণ্ডগোল।
ভর সন্ধেবেলা রাসবিহারীতে তৃণমূলের যুযুধান দুই গোষ্ঠীর লড়াইয়ে আটকে পড়ে যানবাহন। বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, “মালা রায়ের লোকজন আমায় ধাক্কা মারে। কয়েকজন মহিলাকেও পাঠিয়ে দিয়েছিল। তাঁরা যে ভাষায় গালাগালি করছিলেন, এতদিনের রাজনৈতিক জীবনে আমি ওই ভাষা শুনিনি।”
বুধবার সকাল থেকে গৃহবন্দি বিদ্যুৎমন্ত্রী। জানান, কালকের ওই ঘটনার পর থেকেই শরীর খারাপ হয়েছে। মঙ্গলবারের ধস্তাধস্তিতে তাঁর বুকেও আঘাত লেগেছে বলে জানান শোভনদেববাবু। তিনি জানিয়েছেন, বেশ কয়েকজনের নামে তিনি থানায় এফআইআর করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীকে গোটা ঘটনা জানানোর ব্যাপারে বর্ষীয়ান এই তৃণমূল নেতা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এখন বুলবুল নিয়ে ব্যস্ত আছেন। তাই এর মাঝে তাঁকে বিব্রত করতে চাইনি। এটা মিটলেই আমি জানাব। চিঠি লেখা হয়ে গিয়েছে।” মালা রায় সম্পর্কে তীব্র তোপ দেগে শোভনদেববাবু বলেন, “সবাই আমার রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে জানেন। আর ওঁর সম্পর্কেও জানেন। চারবার দল বদল করেছেন!”
গতকালের ঘটনা নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানার জন্য সাংসদ মালা রায়ের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। পরে প্রতক্রিয়া পেলে এই প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।”