দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরও শক্তিশালী হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’। মৌসম ভবন জানিয়েছে, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের মধ্যভাগে তৈরি হওয়া এই সাইক্লোন রাতভর শক্তি বাড়িয়েছে। আগামী ৬ ঘণ্টায় ‘অতি শক্তিশালী’ বা ‘এক্সট্রিম সিভিয়ার সাইক্লোন’-এ পরিণত হবে ‘আমফান’।
ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা উপকূলে সতর্কতা জারি করেছে আইএমডি। তাদের তরফে জানানো হয়েছে প্রতি ঘণ্টায় ১৩ কিলোমিটার বেগে উত্তর এবং উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’। আগামী কয়েক ঘণ্টায় এই সাইক্লোন আরও শক্তি বাড়াবে বলেই পূর্বাভাস মৌসম ভবনের। আইএমডি আরও জানিয়েছে যে ক্রমশ দ্রুত গতিতে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর বরাবর অগ্রসর হচ্ছে এই ঘূর্ণিঝড়। ২০ মে বুধবার পশ্চিমবঙ্গের দিঘা উপকূল এবং বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়ার কথা এই অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের। বুধবারই বাংলায় এই সাইক্লোনের ল্যান্ডফল হবে অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়বে বলে অনুমান করছেন আবহবিদরাও। পাশাপাশি আজ অর্থাৎ সোমবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা উপকূলের বিভিন্ন জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ভারী বৃষ্টির সঙ্গে দাপট থাকবে ঝোড়ো হাওয়ারও।
আইএমডি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় আমফানের বর্তমান অবস্থান ১২.৯ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৬.৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। ওড়িশার পারাদ্বীপ থেকে ৮২০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পশ্চিমবঙ্গের দিঘা উপকূলের ৯৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম ভাগে অবস্থান করছে এই সাইক্লোন। এছাড়াও বাংলাদেশে খেপুপাড়া থেকে ১০৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড় আমফান।
পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা উপকূলের একাধিক অংশে সতর্কতা জারি করেছে আইএমডি। এনডিআরএফ-এর ১০টি দল ওড়িশায় এবং ৭টি দল পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। পশ্চিমবঙ্গের দুই চব্বিশ পরগনা, পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া এবং হুগলিতে পাঠানো হয়েছে এনডিআরএফ-এর টিম। অন্যদিকে ওড়িশার পুরী, জগৎসিংহপুর, কেন্দ্রপদা, বালাসোর, জাজপুর, ভদ্রক এবং ময়ূরভঞ্জে পৌঁছে গিয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল। এক একটি দলে রয়েছে ৪৫ জন কর্মী। এর পাশাপাশি ১৮ থেকে ২১ মে পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। ওড়িশা উপকূলের মোট ১২টি জেলায় জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট। আইএমডি জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশায় এখন ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি হয়েছে।