দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার দিল্লি, মধ্যপ্রদেশের ভোপাল, রাজস্থানের জয়পুর, গুজরাতের আমদাবাদ-সহ হিন্দি সংবাদপত্র দৈনিক ভাস্করের বেশ কয়েকটি অফিসে হানা দিয়েছে আয়কর দফতরের টিম। এরপরেই নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জোড়া টুইট করে লিখেছেন, এই ঘটনা গণতন্ত্রের উপর বিরাট আঘাত। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার সত্যের কণ্ঠকে রুদ্ধ করতে চাইছে বলেও আক্রমণ শানিয়েছেন মমতা। সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, আপনারা শক্ত থাকুন। ঐক্যবদ্ধ ভাবেই আমরা এই স্বৈরাচারী শক্তিকে পরাস্ত করব।
তৃণমূলনেত্রীর বক্তব্য, কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নরেন্দ্র মোদী সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরার কারণেই আয়কর বিভাগকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিন শুধু দৈনিক ভাস্কর নয়। ভারত সমাচার নামের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের দফতর ও তাঁদের সম্পাদকের বাড়িতেও তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে ইনকাম ট্যাক্স।
তাঁদের বিরুদ্ধে কিছু লিখলেই নরেন্দ্র মোদী সরকার এজেন্সিকে ব্যবহার করে এই অভিযোগ বিরোধীদের নতুন নয়। গতকালও একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা বলেছিলেন, বিজেপি এখন এজেন্সিগুলোর কন্ট্রাক্টর হয়েছে। শরদ গোবিন্দ পাওয়ার, পি চিদম্বরমের উদ্দেশে মমতা বলেছিলেন, "কী শরদজি! আপনাকে ছেড়েছে? চিদম্বরমজি, আপনাকে ছেড়েছে? আমার পার্টিকে রোজ জ্বলাতন করে।"
মমতা ছাড়াও জয়রাম রমেশ থেকে একাধিক বিরোধী নেতা এদিন সংবাদমাধ্যমের অফিস ও সাংবাদিকদের বাড়িতে তল্লাশি নিয়ে টুইটে তোপ দেগেছেন। তাঁদের বক্তব্য, দৈনিক ভাস্করের বিরুদ্ধে বিজেপি দলীয় মঞ্চ থেকেও তীব্র আক্রমণ শানাচ্ছিল। তা ছাড়া ভারত সমাচার সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেছিল। এমনিতেই অনেকে অভিযোগ করেন, যোগী সরকার সংবাদমাধ্যমকে দমিয়ে রাখতে নখ-দাঁত বের করে রেখেছে। পান থেকে চুন খসলেই দেশদ্রোহিতার মামলা দেওয়া হচ্ছে।
যদিও আয়কর হানা নিয়ম মেনেই হয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রের। সরকারের বক্তব্য, এই দুই সংবাদমাধ্যম এবং তাঁদের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা দীর্ঘদিন ধরেই কর ফাঁকি দিচ্ছেন। যা হয়েছে আইন মেনেই হয়েছে।