
শেষ আপডেট: 13 February 2019 18:30
বেথাল গ্রিন অ্যাকাডেমি স্কুলের মেধাবী ছাত্রী শামিমা দেশ ছাড়েন ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। সঙ্গে ছিলেন তাঁর দুই সহপাঠী আমিরা আবেস ও কাদিজা সুলতানা। লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দর থেকে তাঁরা তিন জনে উড়ে যান তুরস্ক। সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে সিরিয়ায় ঢোকেন। শামিমার কথায়, ‘‘বাড়িতে বলে গেছিলাম তিন বন্ধু মিলে ঘুরতে যাচ্ছি। সিরিয়া পৌঁছে আইএস-এ যোগ দিই। ২০-২৫ বছর বয়সের যে কোনও ইংরাজি ভাষা জানা আইএস যুবককে বিয়ে করার জন্য অনুমতি চাই। দশ দিন পর এক ইয়াগোর সঙ্গে আমার বিয়ে হয়ে যায়।’’
ব্রিটেন থেকে আইএস ঘাঁটিতে গিয়ে সংসার পাতার অভিজ্ঞতা শোনাতে গিয়ে শামিমা বলেন, পাল্টে যাওয়া জীবনে তিনি খুব খুশিই ছিলেন। অনেক মৃত্যু দেখেছেন, তবে কখনও ভয় পাননি। বলেন, ‘‘ডাস্টবিনে পড়ে থাকত শয়ে শয়ে কাটা মুন্ডু। কখনও শিউরে উঠিনি। আইএসে যোগ দেওয়ার অনুশোচনাও নেই। যাঁরা ইসলামের বিরোধী তাঁদেরই এ ভাবে হত্যা করা হতো।’’
[caption id="attachment_80020" align="aligncenter" width="624"]
(বাঁ দিক থেকে)কাদিজা সুলতানা, আমিরা আবেস ও শামিমা বেগম[/caption]
সিরিয়ায় মার্কিন সমর্থিত সেনা জোটের আক্রমণে আইএস এখন কোণঠাসা। জঙ্গি নেতারা একে একে ধরা পড়ছে। শামিমাকে নিয়ে রাকায় সংসার পেতেছিলেন ওই জঙ্গি নেতা। রাকা তখন আইএসের ঘাঁটি। ২০১৭ সালে মার্কিন সেনা ও সিরিয়া ডেমোক্র্যাটিক বাহিনী (এসডিএফ)-এর সাঁড়াশি আক্রমণে রাকা ছাড়তে বাধ্য হয় আইএস। একের পর এক এলাকায় তারা পিছু হটতে শুরু করে। ‘‘আমার স্বামী আত্মসমর্পন করেন সিরিয়ার সেনার হাতে। তাঁর উপর খুব অত্যাচার চলছে। আমার দুই বান্ধবীই মৃত। একজনের প্রাণ গেছে বোমা বিস্ফোরণে। অপর জনের মৃত্যুর কারণ জানা নেই। আমি পালিয়ে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলাম,’’ বলেছেন শামিমা। প্রথম সন্তানের মৃত্যু হয় এক বছর বয়সে অপুষ্টিতে। দ্বিতীয় সন্তান জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই। তৃতীয় সন্তানকে সুস্থ ভাবে জন্ম দেওয়াই এখন শামিমার একমাত্র লক্ষ্য।
‘‘উত্তর সিরিয়ার এই শরণার্থী শিবিরে এখন ৩৯,০০০ মানুষের বাস। তাঁদের অনেকেই দেশে ফিরতে মরিয়া। এখানে ঠিকমতো খাবার নেই, বাঁচার পরিবেশও নেই,’’ শামিমার কথায়, ‘‘আইএস এখন অনেক ছোট হয়ে আসছে। সেই লড়াকু প্রবৃত্তি হারিয়েছে। জয়ের সম্ভাবনাও অনেক কম। আমি শুধু দেশে ফিরে সুস্থ ভাবে সন্তানকে নিয়ে বাঁচতে চাই।’’