
শেষ আপডেট: 26 May 2023 07:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁরা মেধাবী। তাঁরা স্কুল টপার। অভাব তাঁদের পড়াশোনার পথে বাধা হয়নি। পরিশ্রম আর অদম্য জেদই সাফল্যের চাবিকাঠি বলে জানিয়েছেন বোলপুরের পারুলডাঙার বোলপুর শিক্ষানিকেতন আশ্রম বিদ্যালয়ের ছাত্রী অর্পিতা। উচ্চমাধ্যমিকে ৯০ শতাংশ (HS Result 2023) নম্বর পেয়ে স্কুলে প্রথম হয়েছেন তিনি। অর্পিতারা চার বোন। বড় দুই দিদিও উচ্চমাধ্যমিকে ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়ে স্কুল টপার হয়েছিলেন। সেই ধারা বজায় রাখল অর্পিতাও।
বোলপুরের পারুলডাঙা আজ গর্বিত। সকলে বলছেন মালির ঘরে চার রাজকন্যা জন্মেছে। মৌমিতা, সুস্মিতা, অর্পিতা ও নবনীতা। চারজনেই মেধাবী। চার জনেই স্কুল টপার। বাবা সদানন্দ দাস এক চিকিৎসকের বাড়িতে কেয়ারটেকার ও মালির কাজ করেন। দিনরাত পরিশ্রম করে চার মেয়েকেই পড়াচ্ছেন তিনি। বাবার ইচ্ছা তাঁর চার রাজকন্যেই গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করুক। মেধায় সেরার সেরা হোক, স্বনির্ভর হোক।
চার বোনের মধ্যে বড় বোন মৌমিতা ও মেজ সুস্মিতা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন যথাক্রমে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে। ৪৩৪ ও ৪৫২ নম্বর পেয়ে দুজনেই স্কুলের টপার হয়েছিলেন। তাই এবার নজর ছিল অর্পিতার দিকে। প্রত্যাশা পূরণ করেছেন অর্পিতা। বাংলায় ৮২, ইংরেজিতে ৯২, অর্থনীতিতে ৯০, ভূগোলে ৮৭ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাসে যথাক্রমে ৯৫ ও ৮৬ পেয়েছেন। মোট প্রাপ্ত নম্বর ৪৫০, অর্থাৎ ৯০ শতাংশ। অর্পিতার দুই দিদি মৌমিতা ও সুস্মিতা ৮৬.৮ ও ৯০.৪ শতাংশ পেয়ে স্কুলে প্রথম হয়েছিলেন। ছোট বোন নবনীতা দশম শ্রেণির ছাত্রী। বোর্ড পরীক্ষায় সেও দারুণ রেজাল্ট করবে বলেই সকলের আশা।
পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম থানার প্রত্যন্ত গঙ্গারামপুরে বাসিন্দা সদানন্দ। শান্তিনিকেতনে রুজি রোজগারের আশাতেই আসেন। বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাস লাগোয়া পূর্বপল্লির এক চিকিৎসকের বাড়িতে কেয়ারটেকারের কাজ করেন। ডাক্তারের বাড়িতে বাগান পরিচর্যা থেকে অনেক কাজই করেন সদানন্দ। উপার্জন বেশি নয়। তবে চার মেয়েকে উচ্চশিক্ষা দিতে চান সদানন্দ। মেয়েরা সুপ্রিষ্ঠিত হোক, এই আশাই করেন বাবা।
'বেদেই সব লেখা আছে', দাবি ইসরো চেয়ারম্যানের
অর্পিতার দিদি মৌমিতা স্নাতকোত্তর করার পরে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। সুস্মিতা এখন বিশ্বভারতীতে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়ছেন। শান্তিনিকেতনের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বড় হয়েছেন, তাই সকলেই গান-বাজনা, কবিতা লেখায় পারদর্শী। অর্পিতার স্বপ্ন ভূগোল নিয়ে পড়াশোনা করে অধ্যাপক হওয়া। তবে দারিদ্রের কারণে উচ্চশিক্ষা হবে কিনা সে চিন্তাও রয়েছে। সব বাধাকে পেরিয়ে এগিয়ে যেতে চান চার বোনই।