দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলে গেলেন ৭০ দশকের বিশিষ্ট কবি পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলাল।রেখে গেলেন অসুস্থ স্ত্রী, কন্যা এবং শোকসন্তপ্ত বাংলা কবিতার অগণন পাঠককে। দীর্ঘদিন ধরেই শ্বাসকষ্ট সহ একাধিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। আজ মঙ্গলবার সকাল সাতটা নাগাদ কালিচরণ ঘোষ স্ট্রিটের নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
নির্জন, আত্মমগ্ন কবি হিসাবে দীর্ঘকাল ধরে মননশীল পাঠকসমাজে আদৃত ছিলেন পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলাল। ১৯৪৯ এর ২৩শে ডিসেম্বর মধ্য কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। প্রথম বই 'দেবী' প্রকাশ পায় ১৯৭০ এ। স্বতন্ত্র ভাষাভঙ্গির জন্য প্রকাশের পর পরই তৎকালীন পাঠকমহলে আলোড়ন ফেলে দেয় কাব্যগ্রন্থটি। কবির পরবর্তী প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলি হল-
দেবী ( ১৯৭০),
রাত্রি চতুর্দশী ( ৮৩),
টেবিল, দূরের সন্ধ্যা ( ৮৪),
পাঠকের সঙ্গে, ব্যক্তিগত ( ২০০১),
ধর্মপুত্র, এখানে আসুন ( ২০০৭),
বর্ণজীবের সনেট (২০১৩),
বহিরাগত (২০০৮),
সাদা পাথরের গোলাপগুচ্ছ( ২০১৫),
এবং নবান্ন ( ২০১৯)
এছাড়া, এবছরই ২০২০র বইমেলায় 'আদম' এর কর্ণধার গৌতম মণ্ডলের উদ্যোগে প্রকাশিত হয় কবি পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলালের 'কবিতাসমগ্র'।
সারাজীবনব্যাপী অমলিন কাব্যসাধনার স্বীকৃতি হিসাবে ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা অকাডেমির তরফে আলপনা আচার্য স্মারক সম্মানে ভূষিত করা হয় কবিকে।
ডাক্তারি রিপোর্ট অনুযায়ী পেসমেকারের সমস্যাজনিত কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে কবি পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলালের।। ৭০এর বাংলা কবিতার অন্যতম স্তম্ভ এই কবির আকস্মিক প্রয়াণে স্বভাবতই শোক নেমে এসেছে সাহিত্য অনুরাগী মহলে। শেষ খবর পাওয়া খবরে জানা গেছে সুবোধ সরকার, শুভাশিস ভাদুড়ি, অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিতস্তা ঘোষাল সহ একাধিক স্বনামধন্য কবির পাশাপাশি তরুণ কবিরাও ছুটে গেছেন কবি পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলালের শেষযাত্রায় সামিল হতে। আজ বিকেলের মধ্যেই দাহকার্য সমাধা করা হবে বলে জানালেন কবি শুভাশিস ভাদুড়ি। বাংলা কবিতায় এক নিজস্ব স্বরের জন্ম দিয়েছিলেন পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলাল। তাঁর মৃত্যুকে বাংলা সাহিত্যের এক যুগাবসানের ইঙ্গিত হিসাবেই দেখছেন অনুরাগীরা।