দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূলের ‘বর্তমান ব্যবস্থায়’ খাপ খাওয়াতে পারেননি শুভেন্দু অধিকারী। তিনি খোলাখুলিই বলছেন, ‘ভাইপোকে নেতা মানতে বলেছিলেন মাননীয়া। সেটা আমি পারব না।’
আজ, শুক্রবার রাজ্যসভায় তৃণমূলের সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিলেন দীনেশ ত্রিবেদী। তার পর ইঙ্গিতপূর্ণ বিরোধের স্বর তাঁর গলাতেও। রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে দীনেশ বলেছিলেন, "তৃণমূলে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।"
পরে বাইরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে মনের ক্ষোভ উজাড় করে দেন দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর কথায়, রাজনীতির যাঁরা অ-আ-ক-খ জানে না। তাঁরাই এখন তৃণমূলের নেতা। তাঁর কথায়, "তৃণমূল আর শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল নেই। তা কর্পোরেট পেশাদারদের ব্যবস্থাপনায় চলে গিয়েছে। কারও কাছেই কথা বলার সময় নেই।"
একটা সময় ছিল যখন তৃণমূলের দীনেশ ত্রিবেদীর ভূমিকা ছিল অনন্য। দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোক বলতে অনেকে তাঁকেই চিনতেন। সর্বভারতীয় স্তরে তৃণমূলের নির্ধারণে বড় ভূমিকা ছিল দীনেশের। পর্যবেক্ষকদের অনেকের কথায়, মুকুল রায় তৃণমূলের অঘোষিত নম্বর টু হয়ে ওঠার আগে দীনেশই ছিলেন দিদির ম্যান ফ্রাই ডে।
প্রশ্ন হল, দীনেশ ত্রিবেদীর অসন্তোষও কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে?
এর জবাব দীনেশ পরিষ্কার করে দেননি। শুভেন্দু যেমন বলেছেন, যে কোনও দিন ছাত্র রাজনীতি করেননি, যুব রাজনীতি করেনি, সে এগারো সালের পর হঠাৎই দিল্লি থেকে সোনার চামচ নিয়ে বড় পদ নিয়ে বসে পড়ল!
সে তর্কের পাশাপাশি আরও একটি বিষয় রয়েছে। অনেকেরই ধারণা হল, প্রশান্ত কিশোর তথা পেশাদার সংস্থার পরামর্শে চলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে দলে অনেকেই গুরুত্বহীন ও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছেন।
১৯৯০ সালে জনতা দলের হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন দীনেশ ত্রিবেদী। ২০২১ সালেও তিনি রাজ্যসভার সাংসদ। খেদের সঙ্গে তিনি এদিন বলেছেন, কোনও কাজ নেই তো। অন্যায়ও আর দেখতে পাচ্ছি না। তাই ছেড়ে দিলাম।
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি বিজেপিতে যাচ্ছেন? জবাবে প্রাক্তন রেলমন্ত্রী বলেন, আপাতত নিজের সঙ্গেই থাকব।