দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব বর্ধমান জেলায় একচেটিয়া সাফল্য পেয়েছে তৃণমূল। তবে তাতে সমস্যা কমেনি। ভাল ফলের সুবাদে শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সেখানে আরও বেড়েছে। যা পুরসভা নির্বাচনের আগে জেলা নেতৃত্বের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে।
একসময়ের বাম ঘাঁটি বলে পরিচিত মেমারি বর্তমানে তৃণমূলের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এখানে পুর প্রশাসকের সঙ্গে বিধায়ক শিবিরের দ্বন্দ্ব দিনের আলোর মত সবার কাছে পরিষ্কার। বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য ও মেমারি পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর প্রধান স্বপন বিষয়ী যে যার নিজের মত করে রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন করেন। দু'জনকে এক মঞ্চে দেখাই যায় না। এদিকে তৃণমূলের শহর সভাপতি স্বপন ঘোষাল বিধায়ক শিবিরের হওয়ায় এই লড়াই আরও বেড়েছে।
গত পুরসভা নির্বাচনে মেমারির ১৬ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩ টিতে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। কংগ্রেস একটি ও দুটি ওয়ার্ডে জয়ী হয় নির্দল প্রার্থীরা। কিন্তু এবার দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করায় শেষ পর্যন্ত আসরে নামতে হল জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি দুই পক্ষকে কাটোয়ায় জেলা কার্যালয়ে ডেকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচনের আগে সকলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।
সরাসরি না হলেও বিধায়ক পরোক্ষে দুই পক্ষের মতভেদের কথা মেনে নিয়েছেন। তবে পুরসভা নির্বাচনে এর কোনও প্রভাব পড়বে না বলে তিনি দাবি করেন। পুর প্রশাসক অবশ্য কোনরকম গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা মানতে চাননি। তাঁর দাবি, পুর নির্বাচনে তৃণমূল মেমারির সবকটি ওয়ার্ডে জয়ী হবে।
জেলা সভাপতির হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত কতটা কাজ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তৃণমূলেরই একাংশের মধ্যে। এদিকে, জেলার বাকি পুরসভাগুলিতেও প্রায় একই অবস্থা। তাই শাসক শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ক্রমশ চওড়া হচ্ছে।