দ্য ওয়াল ব্যুরো, দার্জিলিং: সাড়ে তিন বছর পর পাহাড়ে ফিরে গত রবিবার চকবাজারে সভা করেছিলেন বিমল গুরুং। সেই হাই ভোল্টেজ সভা থেকে বিনয় তামাং-অনিত থাপাদের পাহাড়ছাড়া করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন একসময়ের মোর্চা সুপ্রিমো। আজ তারই জবাব দিতে পাহাড়ে পাল্টা সভা বিনয়-অনিতদের। সেই চকবাজারেই।
শীতের পাহাড়ে কুয়াশা কাটতে না কাটতেই শুরু হয়ে গেছে সভার প্রস্তুতি। সোনাদা থেকে মিছিল করে চকবাজারে আসার কথা বিনয়-অনিত নেতৃত্বাধীন মোর্চার। সেখানেই সভা। অসুস্থতার কারণে উপস্থিত নাও থাকতে পারেন বিনয় তামাং। সেক্ষেত্রে অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে মঞ্চে থাকবেন অনিত থাপা। পাল্টা শক্তি প্রদর্শনের এই সভায় তাঁরা কী বার্তা দেন সেদিকেই এখন তাকিয়ে তাঁদের অনুগামীরা।
সাড়ে তিন বছর পর ফের পাহাড়ে পা রেখে চকবাজারে সভা করে প্রত্যাশিতভাবেই বিমল গুরুং আক্রমণ শানিয়েছিলেন তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিনয় তামাং অনিত থাপা শিবিরের বিরুদ্ধে। পাহাড়ের মানুষের কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন রাজ্য সরকারের পাশে থাকার। বিমল গুরুংয়ের সেই সভা ঘিরে তাঁর শিবিরের তৎপরতা ছিল নজরকাড়া। পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে গুরুং সর্মথকরা পৌঁছে গিয়েছিলেন দার্জিলিঙে। কানায় কানায় ভরে উঠেছিল সভাস্থল। বিমলকে ঘিরে উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। গান- নাচ- ত্রিবর্ণ পতাকায় নেতাকে বরণ করে নিয়েছিলেন কর্মী-সমর্থকরা।
মঞ্চ থেকে বিনয় শিবিরকে ‘ডুপ্লিকেট’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন বিমল অনুগামী নেতারা। জানিয়ে দিয়েছিলেন, পাহাড়ের শাহেনশাহ এখনও বিমল গুরুং। কোনওভাবেই তাঁর আসন পাহাড়বাসীর হৃদয় থেকে টলানো যাবে না। এদিন কর্মী-সমর্থকদের ভিড় দেখে যথেষ্ট উচ্ছ্বসিত ছিলেন বিমল গুরুং, রোশন গিরিরা। দুজনেই জানিয়ে দেন বিনয়ের দিন শেষ। বিধানসভা ভোটে তৃণমূলকে জেতানোর জন্য কর্মী সমর্থকদের উদ্যোগী হতে বললেন বিমল গুরুং।
তার আগেই অবশ্য পাহাড়ে পাল্টা পরিবর্তন যাত্রার ডাক দেন বিনয় তামাং গোষ্ঠী। বিনয় গোষ্ঠীর নেতা অনিত থাপা বলেন, ‘‘পাহাড়বাসী কার সঙ্গে রয়েছে তা ২৬ তারিখ প্রমাণ হয়ে যাবে। সে দিনই চ্যালেঞ্জ জানানো হবে বিমল গুরুঙকে।’’
তাই এই পরিবর্তন যাত্রা ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই তেতে উঠেছে পাহাড়। কোন শিবিরের দিকে ঝুঁকে রয়েছেন পাহাড়বাসী আজ তা দেখানোর পালা। রবিবার বিমলের জনসভা সেলপুতে। বেলা এগারোটায়।