
শেষ আপডেট: 6 June 2023 03:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বিদেশ যাত্রায় বাধা দিয়েছে অভিবাসন দফতর। পরে এদিনই রুজিরাকে নোটিস ধরিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তথা ইডি। পরে রাতে এ নিয়ে চড়া সুরে মুখ খুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে হেনস্তা করতেই রুজিরাকে আটকেছে ইডি। ক্ষমতা থাকলে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতার করে দেখান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, “যে ঘটনা আজ ঘটেছে তাতে বোঝা যাচ্ছে, বর্তমান সরকার দেশের আইন মানে না। কারণ, আমাকে ও আমার স্ত্রীকে বিদেশযাত্রায় অনুমতি দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট গত ১৭ অক্টোবর জানিয়েছিল, আমাদের বিদেশ যাত্রায় বাধা নেই। আমাদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া যাবে না।” অভিষেক জানান, এর পরেও গত ৩ জুন তাঁর স্ত্রী ইমেল করে ইডিকে বিদেশ যাত্রার কথা আগাম জানিয়েছিল। তাঁর কথায়, “রুজিরাকে নোটিস পাঠানোর হলে সেদিনই পাঠাতে পারত ইডি। কিন্তু তা করেনি। এদিন সকালে হেনস্তা করবে বলেই অপেক্ষা করছিল। রুজিরা তো বটেই, আমার তিন বছরের ছেলে আর ন’বছরের মেয়েও পার পেল না।”
গত তিন-সাড়ে তিন বছর ধরেই কয়লা-গরু মামলা নিয়ে ধরপাকড়, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কয়লা মামলার তদন্ত সূত্রে দিল্লি, কলকাতা মিলিয়ে অভিষেককেও একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। সোমবার সেই প্রসঙ্গ টেনেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'তিন বছর ধরে অনেক নাটক দেখেছি। ক্ষমতা থাকলে আমায় গ্রেফতার করুন।'
অভিষেকের বক্তব্য, তাঁর খারাপ মতলব থাকলে ইডিকে নিশ্চয়ই জানাতেন না। বড় কথা হল, রুজিরাকে গত বছর জুন মাসে শেষবার তলব করেছিল ইডি। তার পর থেকে ১২ মাস কেটে গিয়েছে। আর ডাকাডাকি করেনি। শুধু এই যে ৫ থেকে ১৩ তারিখ—অর্থাৎ ৮ দিন রুজিরা দেশের বাইরে যাবে বলে জানিয়েছে, ঠিক তখনই নোটিস পাঠানোর প্রয়োজন পড়ল।
রুজিরাকে আটকানোর ব্যাপারে এদিন বিরক্তি প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তার পর আবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে বলেছেন, দেশে ব্যানার্জি বাড়ির আইন চলে না। দেশের নিজের আইন রয়েছে। শুভেন্দু এও বলেন, থাইল্যান্ড থেকে ২ কিলোগ্রাম সোনা নিয়ে কলকাতা বিমানবন্দরে ধরা পড়ার পরই রুজিরাকে গ্রেফতার করা উচিত ছিল।
শুভেন্দুর এই খোঁচার পাল্টা সমালোচনা করেছেন অভিষেক। তিনি বলেন, কলকাতা বিমানবন্দরে পাহারা দেয় সিআইএসএফ। তারা অমিত শাহর অধীনে রয়েছে। অমিত শাহ সিসিটিভি ফুটেজ বের করে যদি ২ গ্রাম সোনা ধরা পড়াও দেখাতে পারবেন কি, চ্যালেঞ্জ করছি।
অভিষেক আরও বলেন, 'যাঁদের টিভি ক্যামেরায় টাকা নিতে দেখা গিয়েছে, যাঁরা রোজভ্যালি সারদার থেকে টাকা নিয়েছেন, যাঁরা ত্রিপল বেচে টাকা তুলেছেন, তাঁরা কিনা নীতি পাঠ দেবেন? বাংলার সবচেয়ে বড় চোর হলেন শুভেন্দু অধিকারী। নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারি হলেন উনিই।'
দুর্গাপুজোর আগে মহম্মদ আলি পার্কের কাজ শেষ করতে হবে, পুরসভাকে নির্দেশ হাইকোর্টের