
শেষ আপডেট: 17 January 2023 12:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: তথ্যে-ছবিতে সমৃদ্ধ করে বিশ্বের দরবারে বাংলার তাঁতশিল্পকে ( Bangla Handloom ) তুলে ধরতে চান নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ( Nobel laureate Abhijit Vinayak Banerjee)। দিনভর তাঁতের গ্রামে ঘুরে তাঁতশিল্পীদের সুখ-দুঃখের বারোমাস্যা শুনে সেই কাজেরই সূচনা করলেন মঙ্গলবার। পৃথিবীখ্যাত মানুষটির সাহচর্য পেয়ে খুশি উপচে পড়ল প্রত্যন্ত গ্রামের প্রান্তিক তাঁতশিল্পীদের। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদকে বহু যত্নে তাঁরা দেখালেন সুতোর টান।
গল্পের শুরুটা জানতে হলে কিন্তু পিছিয়ে যেতে হবে আরও একটু। বছর দুয়েক আগে প্যারিস শহরে একটি সম্মাননা অনুষ্ঠানে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়কের হাতে উপহার তুলে দেওয়া হয়েছিল একটি তাঁতের শার্ট। উপহার পাওয়া শার্টটির কাপড়ের মান আর বুনন দেখে এতটাই ভালো লেগেছিল যে সে জামার সুলুক-সন্ধান করেছিলেন তিনি। তারপর যখন জানতে পারেন এই জামাটি তৈরি হয়েছে তাঁরই রাজ্যে তখন আপ্লুত হয়ে পড়েন।
২০২১ সালের নভেম্বর মাসে ভারতে এসেই পৌঁছে গিয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের বেণীনগর গ্রামে। এখানকার উত্তর ও মধ্যপাড়ায় ঘরে ঘরে শব্দ ওঠে তাঁতের। কিন্তু অনটন পিছু ছাড়ে না। ঘরে ঘরে ঘুরে হস্তচালিত তাঁতশিল্পীদের দুর্দশার কথা জানতে পেরেছিলেন সেবার। তারপরেই বাংলার তাঁতশিল্প এবং শিল্পীদের উন্নয়নের চিন্তাভাবনা মাথায় আসে। মঙ্গলবার এই বেণীনগরেই আবার এলেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন চিত্রপরিচালক রানু ঘোষ, ফ্যাশান ডিজাইনার সুকেশ ধীর এবং অ্যানিমেটর সেইয়েন অলিভিয়া। চারজনের একটি টিম তৈরি করে বাংলার তাঁতশিল্পকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হয়েছেন তাঁরা।
মাধ্যমিকের টেস্টপেপারে ‘আজাদ কাশ্মীর’, বিতর্কের মুখে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, কী বললেন সভাপতি
অভিজিৎ বিনায়ক বলেন, “তাঁতশিল্প বাংলার ঐতিহ্য। এর নকশা-বুননের আবেদনই আলাদা। সারা পৃথিবীর লোক যাতে এই তাঁতশিল্পকে চিনতে পারে তার জন্য একটা উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। সেই জন্যই আসা।” চিত্রপরিচালক রানু ঘোষ জানান, বাংলার তাঁতশিল্প নিয়ে গবেষণালব্ধ 'তথ্যচিত্র' তৈরি করা হবে। গ্রামে ঘুরে সারাদিনই চলল তার প্রস্তুতি। তাঁতশিল্পীদের দুর্দশার কথাও মনোযোগ দিয়ে শুনলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ।