দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল এক কিশোরী। হঠাৎই মাথায় ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ একটি বহুতলের পাঁচিল। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বেলুড়ের শামিম খাঁ রোডে ।
এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘন বসতিপূর্ণ এই এলাকায় তৈরি হচ্ছিল বহুতলটি। একেবারে লাগোয়া সরু রাস্তায় সারাক্ষণ মানুষের যাতায়াত। তা সত্ত্বেও চারদিক না ঘিরেই চলছিল নির্মাণ কাজ। সোমবার বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ কাইসিকা খাতুন নামে ১৭ বছরের ওই কিশোরী শামিম খাঁ রোড দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে চারতলার বারান্দার পাঁচিলের একাংশ। তখনই ওই পাঁচিলটি গাঁথা হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
মাথায় আঘাত পেয়ে রাস্তার উপর লুটিয়ে পড়ে ওই কিশোরী। আশেপাশের মানুষজন তাঁকে প্রথমে টি এল জয়সওয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে তাকে রেফার করে দেন চিকিৎসকরা। এরপরেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাওড়া জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় কাইসিকাকে। ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, বেলুড়ের শামিম খাঁ রোডেই একটি মাদ্রাসার ছাত্রী ছিল কাইসিকা। দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো। তার বাবা একটি কারখানায় কাজ করেন। মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন তিনি। আসেন ওই ছাত্রীর পরিবারের অন্য সদস্যরাও।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই বহুতলের প্রোমোটারের খোঁজ শুরু করেছেন তাঁরা। খুবই নিম্নমানের জিনিস দিয়ে বাড়িটি তৈরি হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই ছাত্রীর মৃত্যুর খবর আসতেই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। কাইসিকার পরিবারের তরফ থেকে এখনও কোনও অভিযোগ করা হয়নি বলেও জানিয়েছে পুলিশ।