দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসুকে একহাত নিতে গিয়ে এ বার দলকেও রেয়াত করলেন না বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত। বললেন, “উনি তো বারাসত লোকসভার দায়িত্বে ছিলেন। নিজের ওয়ার্ডেও জিততে পারেননি। যিনি নিজের ওয়ার্ডে জিততে পারেন না তিনিই গোটা বাংলার নেতা হন। এটাই এখন ট্রেন্ড।” “আগামীদিনে উনি অল ইন্ডিয়া লিডার হবেন।” সংযোজন সব্যসাচীর।
আজ বারাসত আদালতে বাম আমলের একটি মামলায় হাজিরা দিতে এসেছিলেন সব্যসাচী। এখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে যাবতীয় ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বললেন, “ফলাফলের আগে কেউ কেউ বলেছিলেন পচা আলু সরিয়ে রাখতে হয়। তখন মনে হয়েছিল আমিই পচা আলু। কিন্তু পরে দেখলাম পচা আলুই উতরে দিল। ভালরা হড়কে গেল। একটু পচা আলু দিয়ে তৈরি করলে বোধহয় তরকারির স্বাদ ভালো হয়।”
https://www.youtube.com/watch?v=V-d-uSSntEs&feature=youtu.be
এ বার বারাসত কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কাকলী ঘোষ দস্তিদার সব্যসাচী দত্তের এলাকা থেকে ২৩,৬০০ ভোটের লিড পেয়েছেন। অথচ ভোটের দিন মধ্যমগ্রামে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে সব্যসাচী দত্তের নাম শুনে কাকলী জানতে চেয়েছিলেন, হু ইজ সব্যসাচী? ভোটের দিন তৃণমূলের দলের কাজিয়া এমন ভাবে প্রকাশ্যে এসে পড়ায় জলঘোলাও হয়েছিল বিস্তর। ভোটের ফল বের হওয়ার পরে রাজারহাটে নিজের বিধানসভা ক্ষেত্র থেকে লিড দিতে পেরে এখন পাল্টা চাপের পথে বিধাননগরের মেয়র। এ দিন তিনি বলেন, “মন্ত্রী নিজের ওয়ার্ডে হেরেছেন তাই এখন প্রোমোশন হচ্ছে ওঁর।”
বেশ কয়েক মাস ধরে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে সব্যসাচীর সম্পর্ক একটু টালমাতাল। তাঁর বাড়িতে মুকুল রায়ের লুচি-আলুর দম খেতে যাওয়া নিয়ে কম তোলপাড় হয়নি। ফিরহাদ হাকিম, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকরা তাঁকে নিয়ে সুজিতের ক্লাব শ্রীভূমিতে মিটিংও করেছিলেন। দোলের দিন সব্যসাচীকে ভারত মাতা কি জয় স্লোগান দিতেও দেখা যায়। অনেকেই ভেবেছিলেন সব্যসাচী বিজেপিতে গেলেন বলে। কিন্তু ফল বেরোতে দেখা গেল আড়ালে থেকেই দলের হয়ে কাজ করে গেছেন তিনি। তাই এখন যেন তাঁর সরব হওয়ার পালা।