Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
নৌকাডুবিতে ১৫ জনের মৃত্যু, বৃদ্ধার প্রাণ বাঁচাল ইনস্টা রিল, ফোনের নেশাই এনে দিল নতুন জীবন!‘ভূত বাংলা’-তে যিশু সেনগুপ্তর আয় নিয়ে হইচই! ফাঁস হল অঙ্কপদ খোয়ানোর পর এবার নিরাপত্তা! রাঘব চাড্ডার Z+ সুরক্ষা তুলে নিল পাঞ্জাব সরকার, তুঙ্গে জল্পনাফাঁকা স্টেডিয়ামে পিএসএলের আড়ালে ভারতের জ্বালানি সঙ্কট! নকভির ‘যুক্তি’তে হতভম্ব সাংবাদিকভোটের রেজাল্টে পর ফের ডিএ মামলার শুনানি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট! ৬০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, জানাল রাজ্যহরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের দাপট! মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ফিরল বিদেশী ট্যাঙ্কারTCS Case: প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর টাকার টোপ! টিসিএসের অফিসে কীভাবে টার্গেট করা হত কর্মীদের‘ফোর্স ৩’ শুটিং জোরকদমে, পুরনো চরিত্রে ফিরছেন জন— নতুন চমক কারা?'মমতা চান না গোর্খারা শান্তিতে থাকুন, অধিকার ফিরে পান', দার্জিলিঙে ভিডিওবার্তা অমিত শাহেরগ্রাহকের পকেট বাঁচাতে ভারি খেসারত দিচ্ছে তেল কোম্পানিগুলি! প্রতিদিন লোকসান ১,৬০০ কোটির

পরিবারে আপত্তি নেই, মোড়লদের ঘুম নেই, বিয়ে করে ১০ বছর বয়কটের মুখে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর : মরাল পোলিসিং এ নাভিশ্বাস উঠল পশ্চিম মেদিনীপুরের শিক্ষক দম্পতির। ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন। তারই জেরে গত ১০ বছর ধরে সামাজিক বয়কটের শিকার ওই দম্পতি। এই দশ বছর ধরেই প্রশাসনের দোরে দোরে ঘুরছেন তাঁরা। যদি সুবিচার

পরিবারে আপত্তি নেই, মোড়লদের ঘুম নেই, বিয়ে করে ১০ বছর বয়কটের মুখে

শেষ আপডেট: 27 June 2019 07:29

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর : মরাল পোলিসিং এ নাভিশ্বাস উঠল পশ্চিম মেদিনীপুরের শিক্ষক দম্পতির। ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন। তারই জেরে গত ১০ বছর ধরে সামাজিক বয়কটের শিকার ওই দম্পতি। এই দশ বছর ধরেই প্রশাসনের দোরে দোরে ঘুরছেন তাঁরা। যদি সুবিচার মেলে, এই আশায়। কিন্তু সুরাহা হয়নি কোনও। গ্রামের মন্দিরে পুজো দিতে পারেন না তাঁরা। প্রতিদিন চাপ, পানীয় জল বন্ধ করে দেওয়া হবে, চাষ করতে দেওয়া হবে না। চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রেজনা গ্রামে বাড়ি শিক্ষক শান্তনু মণ্ডল ও তুলিকা মণ্ডলের। ১০ বছর আগে ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। দুজনের পরিবার, এ বিয়ে মেনে নিলেও মানেনি গ্রামের মোড়লরা। তুলিকা ও শান্তনুর পরিবারেরও এ বিয়ে মেনে নেওয়া চলবে না বলে নিদান দিয়েছিল তারা। মেনে নিলেই বয়কটের মুখে পড়তে হবে বলে হুমকিও দেয়। কিন্তু সেই হুমকি অগ্রাহ্য করে দুই পরিবারই। তারপর থেকেই চাপ বাড়ে দুজনের। শান্তনু ও তুলিকা বলেন, “একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি, সুখে সংসার করছি। ১০ বছর ধরে। কিন্তু দুঃখের বিষয় একটাই, নিজেদের বংশ পরম্পরার ঠাকুর দেবতাদের মন্দিরেও উঠতে দেয় না পাড়ার মোড়লরা। আমাদের পরিবার আমাদের মেনে নিলেও লাগাতার চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে পাড়ার মোড়লরা। ভয় দেখানো হচ্ছে কৃষি কাজ থেকে শুরু করে পানীয় জল বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমনকি মন্দিরের পুজো থেকে শুরু করে দেবোত্তর সম্পত্তি, সবকিছু থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে আমাদের দুই পরিবারের সদস্যদের।” তাঁরা জানান, বারবার প্রশাসনকে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। স্থানীয় থানাতেও অভিয়োগ জানিয়েছেন। কিন্তু ফল মেলেনি কোনও। গ্রামের মোড়ল বংশীধারী মণ্ডলকে জিজ্ঞাসা করা হলে কোনও লুকোছাপা না করেই এই অমানবিক কাজকে সমর্থন জানান তিনি। তাঁর কথায়, “ঘটনার কথা সঠিক, আমরা কখনই ওই ছেলেমেয়েকে মেনে নেব না, ওরা সম্পর্কে একে অপরের ভাই বোন, ওরা কীভাবে বিবাহ করলো? সমাজ ওদের মেনে নেবে না। ওদের পরিবার ওদের মেনে নিলে তাদেরও আমরা বয়কট করব।” যদিও এই ব্যাপারে দুটি পরিবারেরই বক্তব্য, তাঁরা পড়শি। কোনও আত্মীয়তা নেই। এই পরিস্থিতিতে দুই প্রাপ্তবয়স্কের সম্পর্কে কোন যুক্তিতে সমাজ ও সমাজের মাথারা নাক গলাবে, তার জবাব মোড়ল দেননি। চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের বিডিও অভিষেক মিশ্র বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই আমরা চেষ্টা করছি, বিষয়টা মিটিয়ে দেওয়ার। বারবার এলাকাবাসীকে নিয়ে আমরা আলোচনায় বসেছি। আবার কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা সমস্ত রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করব। আশা করি খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে।”

```