দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : অশান্ত ভাঙড়ে শান্তি ফেরাতে তৎপর জেলা পুলিশ শুক্রবার রাতভর তল্লাশি চালিয়ে এলাকা থেকে ছয় দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করল। এখনও চলছে তল্লাশি অভিযান। এরই মধ্যে ফের চরমে উঠল তৃণমূলের দুই নেতা আরাবুল ইসলাম ও কাইজার আহমেদের সংঘাত।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ভাঙড় থানার সামনে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের জয়ী তৃণমূল প্রার্থী মিমি চক্রবর্তীর সম্বর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। মিমি শেষপর্যন্ত সেই সভায় যাননি। কিন্তু অভিযোগ, এই সভাতেই বৃহস্পতিবার রাত থেকে তেতে ওঠা ভাঙড়ের প্রসঙ্গ তুলে নাম না করে আরাবুল ইসলামকে কটাক্ষ করেন বিরোধী শিবিরের নেতা কাইজার আহমেদ। তলে তলে ওই নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও অভিযোগ করেন কাইজার। এবং দলের নির্দেশ অমান্য করেই ওই এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করছেন আরাবুল, এমন অভিযোগও করেন তিনি।
আরাবুলের পাল্টা মন্তব্য. “ভাঙড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের হাল ধরার মতো যখন কেউ ছিল না, আমি দলটাকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছি। আমার পায়ে পড়ে, আমার হাত ধরে ও পার্টিতে এসেছে। তার মুখ দিয়ে এমন মন্তব্যকে ধিক্কার জানাই।’’
ভাঙড়ে প্রায় ৯০ হাজার ভোটের লিড পেয়েছেন মিমি। বৃহস্পতিবার ভোটের ফল ঘোষণা হতেই অশান্তি শুরু হয়ে যায় ভাঙড়ে। বোমা-গুলি-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। জমি রক্ষা কমিটির নেতাদের অভিযোগ, তাঁরা ভোটে সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে সমর্থন করেছিলেন বলেই বৃহস্পতিবার রাত থেকে তাঁদের সদস্যদের বাড়িতে আরাবুলের নেতৃত্বে তৃণমূল হামলা চালানো শুরু করে।
অভিযোগ, এলাকার এক সময়ের দাপুটে সিপিএম নেতা, ভগবানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান শহিদুল গাইনের বাড়ি- সহ এলাকায় আরও বেশ কিছু বাড়িতে ভাঙচুর চালায় তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। বোমা বন্দুক নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল থেকে হাড়োয়া রোডে গাছের গুঁড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন জমি কমিটির সদস্যরা। কমিটির লোকজন এলাকার তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেন আরাবুল। এর প্রতিবাদে তাঁর নেতৃত্বে ভাঙড়ের নতুনহাটে হাড়োয়া রোড অবরোধ করে তৃণমূল কর্মীরা।
সেই অশান্তির আঁচ কমেনি আজও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী টহল দিচ্ছে গোটা এলাকায়।