দুই দেশের সীমান্তে পাঁচিল দিচ্ছে ভুটান সরকার, ক্ষতির মুখে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক মানুষ সমান উঁচু পাঁচিল তৈরি করছে ভুটান সরকার। ভুটান সীমান্তের কুমারগ্রামের কালীখোলায় এই পাঁচিলই দুই দেশের মধ্যে একটা ব্যবধান তৈরি করবে। বন্ধ হবে জঙ্গল পেরিয়ে দুই দেশের মধ্যে বন্যপ্রাণীদের চলাচলের পথও। ধাক্কা খাবে দেশের ব
শেষ আপডেট: 11 November 2018 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক মানুষ সমান উঁচু পাঁচিল তৈরি করছে ভুটান সরকার। ভুটান সীমান্তের কুমারগ্রামের কালীখোলায় এই পাঁচিলই দুই দেশের মধ্যে একটা ব্যবধান তৈরি করবে। বন্ধ হবে জঙ্গল পেরিয়ে দুই দেশের মধ্যে বন্যপ্রাণীদের চলাচলের পথও। ধাক্কা খাবে দেশের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প। তাই ভুটান সরকারের সিদ্ধান্ত ঘিরে রীতিমতো ঘুম উড়ে গেছে বন দফতরের কর্তাদের। সরব হয়েছেন পরিবেশপ্রেমীরাও।
হঠাৎ কেন এই পাঁচিল? তার কোনও সদুত্তর অবশ্য এখনও ভুটান সরকারের থেকে পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার প্রতিবাদ করে ইতিমধ্যেই জেনেভা আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। আলিপুরদুয়ার নেচার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অমল দত্ত বলেছেন, “ আমরা ভুটান রাজার কাছে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাব। কেন্দ্রীয় বনমন্ত্রকেও এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হবে।’’ সীমান্তে এমন পাঁচিল খাড়া হলে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের সমূহ বিপদ হবে বলে মনে করছেন তিনি।
যেহেতু ভুটান ভারতের বন্ধু রাষ্ট্র, তাই এখনওই কোনও সংঘাতের পথে যেতে চাইছে না ভারত। বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধার করা যাবে বলে মনে করছেন আলিপুরদুয়ারের এখ আইনজীবী অনুজ মিত্র। তাঁর কথায়, “আন্তর্জাতিক প্রয়োজনে দুই দেশের মধ্যে পাঁচিল তোলার কাজ বন্ধ করাই যেতে পারে। কারণ এই দেওয়াল উঠলে ভারত ও ভুটান দুই দেশের বনাঞ্চলই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
দুই দেশের মধ্যে আয়োজিত বর্ডার ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেশন মিটিং-এ এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার তোড়জোড় করছে রাজ্য বন দফতর। জলপাইগুড়ি বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকরা এই বৈঠকে যোগদান করবেন। রাজ্যের বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রিপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৭৬০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের বনাঞ্চল। পাহাড়-সমতল মিলিয়ে এই বনাঞ্চল দেশের ১৫তম দীর্ঘ ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্র। বনাঞ্চলের প্রায় ৭০ কিলোমিটার ভুটান সীমান্ত রয়েছে। বনমন্ত্রী বলেছেন, ‘’আগে ২২ কিলোমিটার এলাকায় ফেন্সিং দিয়েছিল নেপাল। যার কারণে নেপাল সীমান্তের মেচি নদী এলাকায় বন্যপ্রাণীরা সমস্যায় পড়েছিল। তাই এ বার বিষয়টির উপর আমরা গুরুত্ব দিয়ে নজর রাখছি।”
The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন