
শেষ আপডেট: 10 December 2019 18:30
হুমার বাবা ইউনুস মাশিহ পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান। তিনি বলেছেন, ১০ অক্টোবরের পর থেকে লাগাতার তাঁরা পুলিশের দোরে দোরে ঘুরছেন। কিন্তু অভিযোগ নিতে রাজি হননি কেউই। ঘটনার কথা বিস্তারিত জানিয়ে তাঁরা স্থানীয় শিখ সম্প্রদায়ের দ্বারস্থ হন। ন্যাশনাল কমিশন ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস (এনসিজেপি)-র ডিরেক্টর সালেহ দিয়েগো বলেছেন, “এই অপহরণ ও ধর্মান্তরণের আমি বিরোধী। অসহায় পরিবারের পাশে আছি।”
ফের নাবালিকা অপহরণ ও ধর্মান্তরণের কথা ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে করাচিতে। কখনও হিন্দু নাবালিকা, কখনও শিখ কিশোরী, একের পর এক এমন অপহরণ ও ধর্মান্তরণের প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তায় নামেন মানুষজন। পরপর এমন ঘটনা ঘটে চলায়, পাক প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় হিন্দু, শিখ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যেরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, ২০১৬ সালে সিন্ধু প্রদেশের আইনসভায় জোর করে ধর্মান্তকরণের বিরুদ্ধে বিল পাশ হয়েছিল। তার পরেও এই ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নয়া পদক্ষেপ করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেটা কেবল শব্দমাত্র। বাস্তবে তার প্রয়োগ কোথাও হচ্ছে না। সংখ্যালঘুরা পাকিস্তানে নিরাপদে রয়েছেন, পাক প্রধানমন্ত্রীকে তার প্রমাণ দিতে হবে।
এনসিজেপি-র কোঅর্ডিনেটর কাশিফ অ্যান্থনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানে নাবালিকাদের উপর এই নির্যাতনের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। আমরা সরকারের সহযোগিতা আশা করছি। না হলে ক্ষোভের পারদ আরও বাড়বে।
তাম্বু সাহিব গুরুদ্বারের পুরোহিত ভগবান সিংয়ের মেয়ে জগজিৎ কৌরকে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে জোর করে ধর্মান্তরণ করানোর অভিযোগে উত্তাল হয়েছিল লাহোর। গত এপ্রিলেই পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের এক হিন্দু কিশোরীকে ধর্মান্তরণ করিয়ে জোরজবরদস্তি বিয়ের অভিযোগ উঠেছিল। বিয়ের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালও হয়েছিল। সিন্ধু প্রদেশের ঘোটকি জেলার বাসিন্দা দুই বোন রিনা ও রবীনাকে ধর্মান্তরণ ও বিয়ের অভিযোগে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েছিল ইমরান খানের প্রশাসন। সে ক্ষেত্রেও ধর্মান্তরণ করে বিয়ের ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা হয়েছিল। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভের পর ইসলামাবাদ হাইকোর্ট ওই দুই কিশোরীকে দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছিল।