
শেষ আপডেট: 1 May 2019 08:39
তাই রীতিমতো প্রশিক্ষণ নিয়ে, তাঁদের স্ত্রী ফুরদিকি শেরপা ও নিমা ডোমা শেরপা এ বছর চলেছেন এভারেস্ট অভিযানে। পর্বতারোহী দলের সাহায্যকারী সঙ্গী হয়ে রোজগার করবেন তাঁরা, স্বামীদের মতোই। বৈধব্য যন্ত্রণা এবং সাংসারিক অভাবের তাড়নায় এই পথে পা বাড়িয়েছেন তাঁরা। যাবতীয় সামাজিক বাধা বিপত্তি উড়িয়ে, আপন করেছেন বিপদকে।
নেপালের মাকালু গ্রামের বাসিন্দা, ফুরদিকির স্বামী কামি রিটা শেরপা মারা গিয়েছেন ২০১৩ সালে। বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে বিশ্বের নানা প্রান্তের অভিযাত্রীরা যাতে নিরাপদে আরোহণ করতে পারেন, তাই আগে থেকে দড়ি লাগাচ্ছিলেন তিনি। যেমন প্রতিটা আরোহণ-মরসুম শুরুতেই দক্ষ শেরপারা করে থাকেন। এই দড়ি লাগানোর সময়ে আচমকা তুষারধস নেমে আসে নিমার উপর। আরও দু'জন শেরপার সঙ্গে তুষার-সমাধি ঘটে তাঁর।
ঠিক এক বছর পরে, ২০১৪ সালে আবারও এভারেস্টের খুম্বু আইসফলে মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পড়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন নিমা ডোমার স্বামী মিংমা শেরপা। পরে জানা যায়, নিজের প্রাণ দিয়ে, খুম্বু আইসফলে অভিযাত্রীদের বাঁচিয়ে ছিলেন প্রয়াত এই শেরপা।
নিমা ডোমা এবং ফুরদিকিরা বলছেন, স্বামীর মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পরে কান্না ছাড়া আর কোনও পথ ছিল না। কয়েক বছর কোনও রকমে কাটিয়ে দিলেও, শেষমেশ টাকার অভাবে বাচ্চাদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার মুখে বসেছিল। বাধ্য হয়ে পাহাড়ের রাস্তায় নামতে হয়েছে। সংসারে দু'মুঠো খাবারের সংস্থানের জন্য। তাই একসঙ্গেই জোট বেঁধেছেন দুই নারী। হাতে তরবারি না হলেও, রয়েছে আইস-অ্যাক্স, দড়ি।
ঠিক কতটা কঠিন এই অভিযান, তা জানেন দু'জনেই। শেরপাদের ঘরণী ছিলেন যে তাঁরা! স্বামীদের মুখে অভিযানের গল্ব শুনেছেন বহু। কিন্তু কখনও ভাবেননি, সে অভিযানের পথে পা দিতে হবে তাঁদেরও! ফুরদিকির কথায়, "আমাদের পরিবারের মেয়েরা কেউ কোনও দিন পাহাড়ে ওঠেনি। আমাদের উপায় নেই। আমাদের পারতে হবে। আমরা পারব।"
তবে একবারে আনকোরা অবস্থায় এভারেস্টে পা রাখেননি তাঁরা। রীতিমতো প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বছর দুয়েক ধরে। গত নভেম্বরে দু'জনেই ছ'হাজার মিটারেরও বেশি উঁচু আইসল্যান্ড ও চুলু ফার ইস্ট শৃঙ্গ সফল ভাবে আরোহণ করেছেন। এভারেস্ট নিয়েও যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছেন। একটি হিমালয়ান অ্যাডভেঞ্চার কোম্পানি তাঁদের এভারেস্ট আরোহণের যাবতীয় ব্যবস্থাপনা করেছে।
এই দুই বিধবা শেরপার সফল অভিযান হলে শেরপা সম্প্রদায়ের লড়াইয়ের ছবিটা আমূল বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।