Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
কর্নাটকে 'পিরিয়ড লিভ' এবার বাধ্যতামূলক! গোটা রাজ্যেই ১ দিন বেতন-সহ ছুটির নির্দেশ হাইকোর্টের'জয় বাংলা' স্লোগান শুনে মেজাজ হারালেন শুভেন্দু, তেড়ে গেলেন! বালি থানার আইসি-কে হুঁশিয়ারি‘অপরাধ’ বাংলায় কথা বলা! ভোটের মুখে ওড়িশায় ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক মালদহের ১৭ পরিযায়ী শ্রমিক'এটা কাটতে পারব না', জাতীয় পতাকার রঙের ফিতে দেখে পিছু হটলেন ওমর, মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় নেটপাড়া‘সবচেয়ে অসুখী বোধ করছিলাম, শিক্ষাক্ষেত্রে প্রায় পুকুর চুরির মতো ব্যাপার ঘটছিল বলে’প্রকাশিত সিবিএসই দশম শ্রেণির ফলাফল! পাশের হারে ছেলেদের টেক্কা মেয়েদের, শীর্ষে কোন শহর? নববর্ষে পারিবারিক সেলিব্রেশন, তার মাঝেই ইন্ডাস্ট্রির উন্নতির প্রার্থনা অপরাজিতারনববর্ষে রাজ্যপালের মুখে ‘পরিবর্তনের’ ডাক! ‘লাটসাহেব’কে নিয়ে ছেড়ে কথা বললেন না মমতাওস্যালাড খেলেই সুস্বাস্থ্য নয়! ভুলেও কাঁচা খাবেন না এই ৩ সবজি, কারণ জানুনইরানকে কি অস্ত্র দিচ্ছে চিন? শি জিনপিংয়ের চিঠির পর জল্পনা ওড়ালেন ট্রাম্প

স্বামীরা হারিয়ে গিয়েছেন তুষাররাজ্যে, পেট চালাতে এভারেস্ট অভিযানে দুই শেরপার বিধবা স্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতি বছর এই সময়টায় ঘর ছাড়তেন তাঁরা। অন্য আরও অনেকের মতোই। নেশা-পেশা মিলিয়ে, ব্যাগপত্র বেঁধে পাড়ি দিতেন দুর্গম বিপদের মাঝে। বছর-বছর যাওয়া নিশ্চিত, ফেরা কিন্তু নয়। তবু উপায় নেই। সারা বছরের অন্ন সংস্থান বলে কথা! তাঁরা প

স্বামীরা হারিয়ে গিয়েছেন তুষাররাজ্যে, পেট চালাতে এভারেস্ট অভিযানে দুই শেরপার বিধবা স্ত্রী

শেষ আপডেট: 1 May 2019 08:39

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতি বছর এই সময়টায় ঘর ছাড়তেন তাঁরা। অন্য আরও অনেকের মতোই। নেশা-পেশা মিলিয়ে, ব্যাগপত্র বেঁধে পাড়ি দিতেন দুর্গম বিপদের মাঝে। বছর-বছর যাওয়া নিশ্চিত, ফেরা কিন্তু নয়। তবু উপায় নেই। সারা বছরের অন্ন সংস্থান বলে কথা! তাঁরা পেশাদার পর্বতারোহী। যদিও আরোহণের সম্মান কোনও দিনই সে ভাবে পাওয়া হয়নি। 'শেরপা' হয়েই থেকে গিয়েছেন তাঁরা। পর্বতারোহীদের উচ্চতার বন্ধু, গাইড, সহায়ক। পাহাড়চুড়োয় চড়ার জন্য নয়, চড়ানোর জন্য যান তাঁরা। রোজগার করেন টাকা। এপ্রিল মাসে এভারেস্ট আরোহণের মরসুম শুরু হলে, পাহাড়ের কোলের শেরপা বস্তিগুলির প্রায় ঘরে ঘরে এমনটাই হয়ে থাকে। শেরপারা কয়েক মাসের জন্য বেরিয়ে যান অভিযানে, আর তাঁদের মঙ্গলকামনা ও পরিবার প্রতিপালন করার দায়িত্ব পালন করেন তাঁদের স্ত্রী-রা। কিন্তু, এই বছর উলট পুরাণ। শেরপারা নয়, তাঁদের স্ত্রী-রা এ বর এভারেস্টের অভিযাত্রী! না, শখে নয়। নেশাতেও নয়। নিছক পেটের তাগিদে। কারণ কয়েক বছর আগেই তাঁরা হারিয়েছেন তাঁদের স্বামীকে। হিমালয়ের কোলেই, এভারেস্ট অভিযানে গিয়ে। তার পর থেকে বন্ধ আয়ের পথ। তাই রীতিমতো প্রশিক্ষণ নিয়ে, তাঁদের স্ত্রী ফুরদিকি শেরপা ও নিমা ডোমা শেরপা এ বছর চলেছেন এভারেস্ট অভিযানে। পর্বতারোহী দলের সাহায্যকারী সঙ্গী হয়ে রোজগার করবেন তাঁরা, স্বামীদের মতোই। বৈধব্য যন্ত্রণা এবং সাংসারিক অভাবের তাড়নায় এই পথে পা বাড়িয়েছেন তাঁরা। যাবতীয় সামাজিক বাধা বিপত্তি উড়িয়ে, আপন করেছেন বিপদকে। নেপালের মাকালু গ্রামের বাসিন্দা, ফুরদিকির স্বামী কামি রিটা শেরপা মারা গিয়েছেন ২০১৩ সালে। বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে বিশ্বের নানা প্রান্তের অভিযাত্রীরা যাতে নিরাপদে আরোহণ করতে পারেন, তাই আগে থেকে দড়ি লাগাচ্ছিলেন তিনি। যেমন প্রতিটা আরোহণ-মরসুম শুরুতেই দক্ষ শেরপারা করে থাকেন। এই দড়ি লাগানোর সময়ে আচমকা তুষারধস নেমে আসে নিমার উপর। আরও দু'জন শেরপার সঙ্গে তুষার-সমাধি ঘটে তাঁর। ঠিক এক বছর পরে, ২০১৪ সালে আবারও এভারেস্টের খুম্বু আইসফলে মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পড়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন নিমা ডোমার স্বামী মিংমা শেরপা। পরে জানা যায়, নিজের প্রাণ দিয়ে, খুম্বু আইসফলে অভিযাত্রীদের বাঁচিয়ে ছিলেন প্রয়াত এই শেরপা। নিমা ডোমা এবং ফুরদিকিরা বলছেন, স্বামীর মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পরে কান্না ছাড়া আর কোনও পথ ছিল না। কয়েক বছর কোনও রকমে কাটিয়ে দিলেও, শেষমেশ টাকার অভাবে বাচ্চাদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার মুখে বসেছিল। বাধ্য হয়ে পাহাড়ের রাস্তায় নামতে হয়েছে। সংসারে দু'মুঠো খাবারের সংস্থানের জন্য। তাই একসঙ্গেই জোট বেঁধেছেন দুই নারী। হাতে তরবারি না হলেও, রয়েছে আইস-অ্যাক্স, দড়ি। ঠিক কতটা কঠিন এই অভিযান, তা জানেন দু'জনেই। শেরপাদের ঘরণী ছিলেন যে তাঁরা! স্বামীদের মুখে অভিযানের গল্ব শুনেছেন বহু। কিন্তু কখনও ভাবেননি, সে অভিযানের পথে পা দিতে হবে তাঁদেরও! ফুরদিকির কথায়, "আমাদের পরিবারের মেয়েরা কেউ কোনও দিন পাহাড়ে ওঠেনি। আমাদের উপায় নেই। আমাদের পারতে হবে। আমরা পারব।" তবে একবারে আনকোরা অবস্থায় এভারেস্টে পা রাখেননি তাঁরা। রীতিমতো প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বছর দুয়েক ধরে। গত নভেম্বরে দু'জনেই ছ'হাজার মিটারেরও বেশি উঁচু আইসল্যান্ড ও চুলু ফার ইস্ট শৃঙ্গ সফল ভাবে আরোহণ করেছেন। এভারেস্ট নিয়েও যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছেন। একটি হিমালয়ান অ্যাডভেঞ্চার কোম্পানি তাঁদের এভারেস্ট আরোহণের যাবতীয় ব্যবস্থাপনা করেছে। এই দুই বিধবা শেরপার সফল অভিযান হলে শেরপা সম্প্রদায়ের লড়াইয়ের ছবিটা আমূল বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

```