দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে রাজধানী দিল্লির জেল খালি করতে শুরু করল দিল্লি সরকার। মনে করা হচ্ছে দিল্লির ষোলোটি কারাগার থেকে অন্তত হাজার তিনেক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে। এদের মধ্যে রয়েছেন দেশের কয়েক জন নামী ব্যবসায়ী। তাঁদের কেউ বিচারাধীন বন্দি আবার কেউ সাজাপ্রাপ্ত আসামি।
সরকার স্থির করেছে যে জালিয়াতি ও দেশদ্রোহিতার মামলা যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে তাদের মুক্তি দেওয়া হবে না জেল থেকে। সিবিআই এবং দুর্নীতিদমন শাখা যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে তাদের জেল থেকে ছাড়া হবে না। যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অ্যাসিড হামলার অভিযোগ রয়েছে তাদের ছাড়া হবে না। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে শিশুদের নিপীড়ন করার অভিযোগ রয়েছে তাদেরও মুক্তি দেওয়া হবে না। যাদের বিরুদ্ধে এইসব অভিযোগ রয়েছে এবং যে সব বিদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন তাঁরা যদি একমাসেরও বেশি সময় ধরে বন্দি থেকে থাকে তাহলেও তাদের মুক্তি দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
ভারতের বিভিন্ন জেলে যে সব বন্দি রয়েছে তাদের মধ্যে যাতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য গত ১৬ মার্চ দেশের সর্বোচ্চ আদালত দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেয়।
জেলবন্দিদের সুরক্ষার কথা ভেবে দেশের সমস্ত কারাগারকে সংক্রমণ মুক্ত করার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। শুধু তাই নয় ওই রায়ে সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়ে দেয় যে বিচারাধীন বন্দি ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জামিনে অথবা প্যারোলে মুক্তি দিতে হবে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য এক ও একমাত্র উপায় হিসেবে একসঙ্গে বেশি লোকজনের না থাকা এবং সর্বোচ্চ পরিচ্ছন্নতা মেনে চলতে বলা হচ্ছে। এই অবস্থায় জেলের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে একসঙ্গে অত বন্দির থাকা নিরাপদ নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সেই কারণেই এই রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবদের জানিয়ে দেয় যে বিচারের আওতায় থাকা বন্দিদের প্যারোলে বা জামিনে মুক্তি দিতে হবে এই মহামারীর সময়ে। নইলে মহামারী ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও বাড়বে। বিচারাধীন ছাড়াও যে সব সাজাপ্রাপ্ত বন্দির শাস্তির মেয়াদ সাত বছরের কম, তাদেরও প্যারোল বা জামিনে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।