
শেষ আপডেট: 25 November 2020 01:45
বান্ধবগড়ের বাঘ[/caption]
এখানে আরও একটা কথা প্রাসঙ্গিক। রাজ্যের বাঘ নিয়ে শিবরাজ কিন্তু বেশ কিপটে। নরেন্দ্র মোদী যখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন শিবরাজের থেকে (পড়ুন মধ্যপ্রদেশের থেকে) দুটো বাঘ চেয়েছিলেন। বলেছিলেন, আমাদের জুনাগড়ের জঙ্গল রয়েছে। সেখানে সিংহ রয়েছে। দুটো বাঘ থাকলে ভাল হয়। কিন্তু শিবরাজ দিতে চাননি। সেই নিয়েও কত টানাপোড়েন।
অথচ সেই বান্ধবগড়ের অরণ্যেই ১১ মাসে ৯ টা বাঘ মারা গিয়েছে। তা ছাড়া রাজ্যে পর পর দু’মাসে ৬ টা বাঘ মারা গিয়েছে। বনমন্ত্রী শাহ মঙ্গলবার বলেছেন, “কেন এমন হচ্ছে সে ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি। কয়েকজন রেঞ্জ অফিসারের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে।”
তবে বন দফতরের অফিসাররা ঘরোয়া ভাবে জানিয়েছেন, বান্ধবগড়ে যে ৯টি বাঘ মারা গিয়েছে তাদের মধ্যে চারটির মৃত্যু হয়েছে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে। চোরা শিকারির হাতে মারা গিয়েছে একটি। বাকি পাঁচটি বাঘের মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট নয়।
বান্ধবগড়ে যে চোরা শিকারিরা হানা দিতে পারে সে ব্যাপারে কিন্তু সতর্ক করেছিল জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ। তাদের পত্রিকা স্ট্রাইপসে বলা হয়েছিল, চোরা শিকারিরা কোভিডের সময়ে লকডাউনের সুযোগ নিয়ে হানা দিতে পারে। সেই সতর্কবার্তা পেয়ে চোখ কানা খোলা রাখা হয়েছিল কিনা তা স্পষ্ট নয়।
২০১৯ সালে বাঘ সুমারি হয়েছিল গোটা দেশে। সে সময়েই জানা গিয়েছিল, সুন্দরবনে মাত্র ১২ টি বাঘ রয়েছে। মধ্যপ্রদেশে রয়েছে পাঁচশরও বেশি। সংখ্যার হিসাবে তার পরই কর্নাটক ও উত্তরাখণ্ডে বাঘ রয়েছে। তবে এও ঠিক গত ৮ বছর ধরে সবচেয়ে বেশি বাঘ মারা যাচ্ছে মধ্যপ্রদেশে।
জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১২ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ১৭২ টি বাঘ মারা গিয়েছে মধ্যপ্রদেশে। কর্নাটকে মারা গিয়েছে ১১১টি। আর এই আট বছরে উত্তরাখণ্ডে ৮৮ টি বাঘ মারা গিয়েছে। বিভিন্ন কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে যেমন এলাকা দখলের লড়াই রয়েছে, তেমনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাঘ মারা যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে। তা ছাড়া বার্ধক্যজনিত কারণে স্বাভাবিক নিয়মে বাঘ মারা যাচ্ছে। তার পর তো চোরা শিকারিদের উৎপাত রয়েছেই।