দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে এবার বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা শুরু করল রেলমন্ত্রক। বুধবার ১০৯ জোড়া রুটে ১৫১ টি ট্রেনে বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে রেল। জানা গিয়েছে, এই প্রোজেক্টে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেসরকারি বিনিয়োগ হতে চলেছে।
ভারতীয় রেলে প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে এই প্রথম বেসরকারি বিনিয়োগ হচ্ছে। এর আগে এক্সপ্রেস ট্রেনে বেসরকারি বিনিয়োগের কাজ শুরু হয় গত বছর। লখনউ দিল্লি তেজস এক্সপ্রেস চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন বা আইআরসিটিসিকে। এই মুহূর্তে লখনউ দিল্লি তেজস এক্সপ্রেস ছাড়াও কাশী মহাকাল এক্সপ্রেস ও আহমেদাবাদ মুম্বই তেজস এক্সপ্রেস চালানোর দায়িত্ব রয়েছে আইআরসিটিসির।
রেলমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, “এই উদ্যোগের প্রধান কারণ হল নতুন টেকনোলজির যোগান, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কমানো, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা ও যাত্রীদের জন্য বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া।” যে ১০৯টি রুটে এই বিনিয়োগের আবেদন করা হয়েছে, সেগুলি ১২টি এলাকার মধ্যে রয়েছে। প্রতিটি ট্রেনে কমপক্ষে ১৬টি কামরা থাকবে।
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ট্রেনগুলির বেশিরভাগই ভারতে তৈরি হবে। তার খরচ, চলাচল, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে বেসরকারি সংস্থার উপর। রেলমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, “প্রতিটি ট্রেনেরই সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৬০ কিলোমিটার হবে। যাত্রার সময় কমাতে হবে। এই সব দায়িত্ব নিতে হবে বিনিয়োগকারী সংস্থাকে।” জানা গিয়েছে, এককালীন ৩৫ বছরের জন্য একটি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তার জন্য রেলমন্ত্রককে টাকা দেবে ওই সংস্থাগুলি। এমনকি যে লাভ হবে, তারও একটা অংশ রেলমন্ত্রককে দিতে হবে।
মন্ত্রক জানিয়েছেন, “এই ট্রেনগুলিতে যে ড্রাইভার ও গার্ডরা কাজ করবেন তাঁরা ভারতীয় রেলওয়ের হবেন। তাছাড়া অন্য কিছু কাজের জন্য নিয়োগ করতে পারে সংস্থাগুলি।” রেলের তরফে ঠিক করা গাইডলাইন মেনেই ট্রেনগুলির চলাচল ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে হবে।
জানা গিয়েছে, দুটি ভাগে এই বেসরকারিকরণের কাজ হবে। প্রথম ভাগ শুরু হয়েছে বুধবার। বেসরকারি সংস্থাগুলিকে আবেদন করার কথা বলা হয়েছে। এরপরে সেই আবেদনের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সেখানে কী পরিমাণ লাভ হতে পারে, রেলকে কত টাকা দিতে হবে প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা হবে।
ভারতে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার আগে আর কে ক্যাটারিং, আদানি পোর্টস, মেক মাই ট্রিপ, ইন্ডিগো, ভিস্তারা, স্পাইসজেট প্রভৃতি কোম্পানি ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখিয়েছিল।
চলতি বছরের শুরুর দিকে নীতি আয়োগ ও রেলমন্ত্রক আলোচনা করে জানায়, ১০০টি রুটে ১৫০টি ট্রেন বেসরকারি সংস্থাদের দ্বারা চালানো হবে। এর ফলে ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে। বিনিয়োগের অঙ্ক আরও বেড়েছে। এখন দেখার এই প্রস্তাবে কোন কোন বিনিয়োগকারী এগিয়ে আসে।